বিশ্বনাথ প্রতিনিধি, আফজাল মিয়া:
শৈশবে ক্রিকেট ছিল তার নেশা। ব্যাট-বল নিয়েই কেটে যেত দিনের বেশিরভাগ সময়, এমনকি এলাকাজুড়ে ছিল ক্রিকেটকে ঘিরেই তার পরিচিতি। তবে ভাগ্যের মোড় ঘুরে তিনি আজ দেশের সেরা স্বর্ণজয়ী শাটলারদের একজন। সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার তরুণ ক্রীড়াবিদ আবদুল জাহির তানভীর এখন ব্যাডমিন্টনে দেশের গর্ব।
সম্প্রতি তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে জাতীয় ক্রীড়া সম্মাননা লাভ করেছেন। এই স্বীকৃতি তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির ফল।
বুধবার বিকেলে তার নিজ গ্রাম অলংকারি ইউনিয়নের ‘টুকের কান্দি’তে গিয়ে কথা হয় এই প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদের সঙ্গে। চার ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয় তানভীর পড়াশোনা করেছেন এইচএসসি পর্যন্ত। ২০০৯ সালে, মাত্র ১৫-১৬ বছর বয়সে খেলাধুলায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন তিনি।
তানভীর জানান, ছোটবেলায় ক্রিকেটই ছিল তার প্রথম ভালোবাসা। তবে রাতের বেলায় ব্যাডমিন্টন খেলতে খেলতেই এই খেলায় দক্ষতা বাড়তে থাকে। একসময় বুঝতে পারেন, দুটি খেলায় একসঙ্গে পেশাদার হওয়া সম্ভব নয়। ক্রিকেটে সুযোগ না পেয়ে এবং মানুষের উৎসাহ ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী বড়ভাই আবদুল বাছিতের অনুপ্রেরণায় ব্যাডমিন্টনকেই নিজের লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেন।
সিলেটের রিকাবীবাজারে টানা পাঁচ বছর প্রশিক্ষক মঞ্জুর আল মামুনের অধীনে অনুশীলন করেন তানভীর। এরপর ২০১৪ সাল থেকে আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিতে থাকেন। কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতার ফলস্বরূপ অল্প সময়েই দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করেন তিনি।
তার সাফল্যের ঝুলিও সমৃদ্ধ। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হন তিনি। ২০২৪ সালে রানার্স-আপ হওয়ার পর ২০২৫ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ২৫টি দেশের অংশগ্রহণে ‘সানরাইজ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল সিরিজ’-এ চ্যাম্পিয়ন হয়ে জিতে নেন স্বর্ণপদক।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তানভীর বলেন, “বিদেশের মাটিতে দেশের জার্সি গায়ে খেলতে নামার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তখন শুধু মনে হয় দেশের জন্য নিজেকে উজাড় করে দেই।” ইতোমধ্যে তিনি অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, দুবাই ও ভারতে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। শিগগিরই কানাডায় যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
তরুণদের উদ্দেশে তার বার্তা, পরিবারের সমর্থন, কঠোর পরিশ্রম এবং সঠিক প্রশিক্ষণ—এই তিনটি বিষয় থাকলে যে কেউ ব্যাডমিন্টনে সফল ক্যারিয়ার গড়তে পারে।
জাতীয় সম্মাননা পাওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তানভীর বলেন, “বর্তমান সরকার আমাদের নতুন আশার আলো দেখিয়েছে। সম্মাননার পাশাপাশি ভাতার ব্যবস্থাও করেছে, যা আমাদের উৎসাহ আরও বাড়িয়ে দেয়। সরকার পাশে থাকলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য আরও সাফল্য বয়ে আনা সম্ভব।”
একসময় ক্রিকেটপ্রেমী সেই কিশোর আজ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করা এক সফল শাটলার—তানভীরের এই যাত্রা নিঃসন্দেহে তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার গল্প।
বিষয় : #বিশ্বনাথ উপজেলা

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি, আফজাল মিয়া:
শৈশবে ক্রিকেট ছিল তার নেশা। ব্যাট-বল নিয়েই কেটে যেত দিনের বেশিরভাগ সময়, এমনকি এলাকাজুড়ে ছিল ক্রিকেটকে ঘিরেই তার পরিচিতি। তবে ভাগ্যের মোড় ঘুরে তিনি আজ দেশের সেরা স্বর্ণজয়ী শাটলারদের একজন। সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার তরুণ ক্রীড়াবিদ আবদুল জাহির তানভীর এখন ব্যাডমিন্টনে দেশের গর্ব।
সম্প্রতি তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে জাতীয় ক্রীড়া সম্মাননা লাভ করেছেন। এই স্বীকৃতি তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির ফল।
বুধবার বিকেলে তার নিজ গ্রাম অলংকারি ইউনিয়নের ‘টুকের কান্দি’তে গিয়ে কথা হয় এই প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদের সঙ্গে। চার ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয় তানভীর পড়াশোনা করেছেন এইচএসসি পর্যন্ত। ২০০৯ সালে, মাত্র ১৫-১৬ বছর বয়সে খেলাধুলায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন তিনি।
তানভীর জানান, ছোটবেলায় ক্রিকেটই ছিল তার প্রথম ভালোবাসা। তবে রাতের বেলায় ব্যাডমিন্টন খেলতে খেলতেই এই খেলায় দক্ষতা বাড়তে থাকে। একসময় বুঝতে পারেন, দুটি খেলায় একসঙ্গে পেশাদার হওয়া সম্ভব নয়। ক্রিকেটে সুযোগ না পেয়ে এবং মানুষের উৎসাহ ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী বড়ভাই আবদুল বাছিতের অনুপ্রেরণায় ব্যাডমিন্টনকেই নিজের লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেন।
সিলেটের রিকাবীবাজারে টানা পাঁচ বছর প্রশিক্ষক মঞ্জুর আল মামুনের অধীনে অনুশীলন করেন তানভীর। এরপর ২০১৪ সাল থেকে আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিতে থাকেন। কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতার ফলস্বরূপ অল্প সময়েই দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করেন তিনি।
তার সাফল্যের ঝুলিও সমৃদ্ধ। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হন তিনি। ২০২৪ সালে রানার্স-আপ হওয়ার পর ২০২৫ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ২৫টি দেশের অংশগ্রহণে ‘সানরাইজ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল সিরিজ’-এ চ্যাম্পিয়ন হয়ে জিতে নেন স্বর্ণপদক।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তানভীর বলেন, “বিদেশের মাটিতে দেশের জার্সি গায়ে খেলতে নামার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তখন শুধু মনে হয় দেশের জন্য নিজেকে উজাড় করে দেই।” ইতোমধ্যে তিনি অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, দুবাই ও ভারতে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। শিগগিরই কানাডায় যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
তরুণদের উদ্দেশে তার বার্তা, পরিবারের সমর্থন, কঠোর পরিশ্রম এবং সঠিক প্রশিক্ষণ—এই তিনটি বিষয় থাকলে যে কেউ ব্যাডমিন্টনে সফল ক্যারিয়ার গড়তে পারে।
জাতীয় সম্মাননা পাওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তানভীর বলেন, “বর্তমান সরকার আমাদের নতুন আশার আলো দেখিয়েছে। সম্মাননার পাশাপাশি ভাতার ব্যবস্থাও করেছে, যা আমাদের উৎসাহ আরও বাড়িয়ে দেয়। সরকার পাশে থাকলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য আরও সাফল্য বয়ে আনা সম্ভব।”
একসময় ক্রিকেটপ্রেমী সেই কিশোর আজ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করা এক সফল শাটলার—তানভীরের এই যাত্রা নিঃসন্দেহে তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার গল্প।

আপনার মতামত লিখুন