আলোর সন্ধানে প্রতিদিন

সিলেটে সিএনজি অটোরিকশা থেকে অবৈধ টোকেন বাণিজ্যের অভিযোগ, নীরব প্রশাসন



সিলেটে সিএনজি অটোরিকশা থেকে অবৈধ টোকেন বাণিজ্যের অভিযোগ, নীরব প্রশাসন
ছবি সংগ্রহ নিজস্ব প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিনিধি 

সিলেটে দিন দিন উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে অবৈধ টোকেন বাণিজ্য। বিশেষ করে হাইওয়ে দক্ষিণ সুরমা থানা এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা চালকদের কাছ থেকে টোকেনের নামে প্রকাশ্যে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় সাধারণ চালকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।

সূত্র মতে জানা যায়, প্রতিদিন নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টে সিএনজি অটোরিকশা থামিয়ে চালকদের কাছ থেকে টোকেনের নামে টাকা নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, টোকেন না কিনলে অনেক ক্ষেত্রে চালকদের বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়। ফলে বাধ্য হয়েই তারা অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করছেন।

স্থানীয় সিএনজি চালকদের অভিযোগ, প্রতিদিনের সীমিত আয়ের মধ্য থেকে একটি অংশ এই অবৈধ টোকেন বাণিজ্যের পেছনে চলে যাচ্ছে। এতে করে পরিবার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে অনেককে। একাধিক চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “দিন শেষে যা আয় করি, তার মধ্য থেকেও টোকেনের নামে টাকা দিতে হয়। প্রতিবাদ করলে গাড়ি দাঁড় করাতে দেয় না, আবার বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়।”

এলাকাবাসীর দাবি, এই অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে একটি প্রভাবশালী মহল জড়িত থাকায় কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

সচেতন মহল বলছে, মহাসড়ক এলাকায় এ ধরনের অবৈধ টোকেন বাণিজ্য শুধু আইনবিরোধী নয়, এটি সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। তারা অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে ঘটনার প্রমাণ হিসেবে কয়েকটি ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিগুলোতে সিএনজি অটোরিকশা চালকদের কাছ থেকে টোকেন সংগ্রহ ও অর্থ লেনদেনের বিভিন্ন দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি প্রকাশ্যেই এমন অবৈধ কার্যক্রম চলতে পারে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি কোথায়? দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

বিষয় : #osmani Nagar #সিলেট #বিশ্বনাথ উপজেলা

আপনার মতামত লিখুন

 আলোর সন্ধানে প্রতিদিন

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬


সিলেটে সিএনজি অটোরিকশা থেকে অবৈধ টোকেন বাণিজ্যের অভিযোগ, নীরব প্রশাসন

প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬

featured Image

নিজস্ব প্রতিনিধি 

সিলেটে দিন দিন উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে অবৈধ টোকেন বাণিজ্য। বিশেষ করে হাইওয়ে দক্ষিণ সুরমা থানা এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা চালকদের কাছ থেকে টোকেনের নামে প্রকাশ্যে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় সাধারণ চালকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।

সূত্র মতে জানা যায়, প্রতিদিন নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টে সিএনজি অটোরিকশা থামিয়ে চালকদের কাছ থেকে টোকেনের নামে টাকা নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, টোকেন না কিনলে অনেক ক্ষেত্রে চালকদের বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়। ফলে বাধ্য হয়েই তারা অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করছেন।

স্থানীয় সিএনজি চালকদের অভিযোগ, প্রতিদিনের সীমিত আয়ের মধ্য থেকে একটি অংশ এই অবৈধ টোকেন বাণিজ্যের পেছনে চলে যাচ্ছে। এতে করে পরিবার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে অনেককে। একাধিক চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “দিন শেষে যা আয় করি, তার মধ্য থেকেও টোকেনের নামে টাকা দিতে হয়। প্রতিবাদ করলে গাড়ি দাঁড় করাতে দেয় না, আবার বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়।”

এলাকাবাসীর দাবি, এই অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে একটি প্রভাবশালী মহল জড়িত থাকায় কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

সচেতন মহল বলছে, মহাসড়ক এলাকায় এ ধরনের অবৈধ টোকেন বাণিজ্য শুধু আইনবিরোধী নয়, এটি সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। তারা অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে ঘটনার প্রমাণ হিসেবে কয়েকটি ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিগুলোতে সিএনজি অটোরিকশা চালকদের কাছ থেকে টোকেন সংগ্রহ ও অর্থ লেনদেনের বিভিন্ন দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি প্রকাশ্যেই এমন অবৈধ কার্যক্রম চলতে পারে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি কোথায়? দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।


 আলোর সন্ধানে প্রতিদিন


কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আলোর সন্ধানে প্রতিদিন