সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সংক্রান্ত জালিয়াতি, প্রতারণা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে দায়ের হওয়া এক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মোঃ মকবুল হোসেন (৫৬) কে গ্রেফতার করেছে ওসমানীনগর থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত মকবুল হোসেন উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের বাইকদারা গ্রামের মৃত জয়নাল মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ বিভিন্ন সরকারি কাগজপত্র দ্রুত পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে একটি চক্র সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। সম্প্রতি এক ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর জালিয়াতি, প্রতারণা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের নামে ভুয়া তথ্য ও কাগজপত্র ব্যবহার করে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশগামী ও চাকরিপ্রত্যাশী ব্যক্তিদের টার্গেট করে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হতো। পরে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না করে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও চাপ সৃষ্টি করা হতো বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেল প্রায় ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওসমানীনগর থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম উপজেলার বাইকদারা গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় নিজ বাড়ি থেকে মোঃ মকবুল হোসেনকে আটক করা হয়। পরে তাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
পুলিশ জানায়, মামলায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪২০ ধারা (প্রতারণা), ৪৬৭ ধারা (মূল্যবান দলিল জালিয়াতি), ৪৬৮ ধারা (প্রতারণার উদ্দেশ্যে জাল কাগজপত্র তৈরি), ৪৭১ ধারা (জাল কাগজপত্র ব্যবহার) এবং ৫০৬ ধারা (ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান) সংযুক্ত করা হয়েছে। এসব ধারায় দোষী সাব্যস্ত হলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলার তদন্তে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত চক্রটি কতদিন ধরে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল এবং কতজন মানুষ এর শিকার হয়েছেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ইতোমধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি সংগ্রহ করেছে বলেও জানা গেছে।
স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রভাবশালী চক্র সরকারি কাগজপত্র ও ক্লিয়ারেন্স সংক্রান্ত কাজের নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। তবে ভুক্তভোগীরা অনেক সময় সামাজিক চাপ ও হয়রানির ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পেতেন না। সাম্প্রতিক এই মামলার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এদিকে গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অনেকেই এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। সচেতন মহল বলছে, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও ক্লিয়ারেন্সকে কেন্দ্র করে প্রতারণা নতুন কিছু নয়। তবে এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
ওসমানীনগর থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বা সরকারি কোনো সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। কোনো দালাল বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে লেনদেন না করে সরাসরি সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিকে শুক্রবার আদালতে প্রেরণ করা হবে। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সংক্রান্ত জালিয়াতি, প্রতারণা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে দায়ের হওয়া এক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মোঃ মকবুল হোসেন (৫৬) কে গ্রেফতার করেছে ওসমানীনগর থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত মকবুল হোসেন উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের বাইকদারা গ্রামের মৃত জয়নাল মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ বিভিন্ন সরকারি কাগজপত্র দ্রুত পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে একটি চক্র সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। সম্প্রতি এক ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর জালিয়াতি, প্রতারণা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের নামে ভুয়া তথ্য ও কাগজপত্র ব্যবহার করে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশগামী ও চাকরিপ্রত্যাশী ব্যক্তিদের টার্গেট করে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হতো। পরে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না করে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও চাপ সৃষ্টি করা হতো বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেল প্রায় ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওসমানীনগর থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম উপজেলার বাইকদারা গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় নিজ বাড়ি থেকে মোঃ মকবুল হোসেনকে আটক করা হয়। পরে তাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
পুলিশ জানায়, মামলায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪২০ ধারা (প্রতারণা), ৪৬৭ ধারা (মূল্যবান দলিল জালিয়াতি), ৪৬৮ ধারা (প্রতারণার উদ্দেশ্যে জাল কাগজপত্র তৈরি), ৪৭১ ধারা (জাল কাগজপত্র ব্যবহার) এবং ৫০৬ ধারা (ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান) সংযুক্ত করা হয়েছে। এসব ধারায় দোষী সাব্যস্ত হলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলার তদন্তে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত চক্রটি কতদিন ধরে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল এবং কতজন মানুষ এর শিকার হয়েছেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ইতোমধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি সংগ্রহ করেছে বলেও জানা গেছে।
স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রভাবশালী চক্র সরকারি কাগজপত্র ও ক্লিয়ারেন্স সংক্রান্ত কাজের নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। তবে ভুক্তভোগীরা অনেক সময় সামাজিক চাপ ও হয়রানির ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পেতেন না। সাম্প্রতিক এই মামলার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এদিকে গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অনেকেই এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। সচেতন মহল বলছে, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও ক্লিয়ারেন্সকে কেন্দ্র করে প্রতারণা নতুন কিছু নয়। তবে এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
ওসমানীনগর থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বা সরকারি কোনো সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। কোনো দালাল বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে লেনদেন না করে সরাসরি সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিকে শুক্রবার আদালতে প্রেরণ করা হবে। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আপনার মতামত লিখুন