আলোর সন্ধানে প্রতিদিন

ব্যক্তিত্বের শিল্পরূপ: অন্যের মনে প্রশান্তির বীজ



ব্যক্তিত্বের শিল্পরূপ: অন্যের মনে প্রশান্তির বীজ

হাফিজুল ইসলাম লস্কর

পৃথিবীতে মানুষের অভাব নেই, কিন্তু 'মানুষের মতো মানুষ' বা ইতিবাচক ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষের বড্ড অভাব। আমরা এমন এক যুগে বাস করছি যেখানে বাহ্যিক চাকচিক্য আর যান্ত্রিকতা আমাদের গ্রাস করে ফেলেছে। অথচ জীবনের সার্থকতা কেবল নিজের উন্নতিতে নয়, বরং অন্যের মনে প্রশান্তির বীজ বপন করার মধ্যে। একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় ফুটে ওঠে তার ব্যক্তিত্বের শিল্পরূপে।

​একটি আদর্শ ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার উপস্থিতি। কিছু মানুষ ঘরে ঢুকলে মনে হয় যেন একরাশ স্নিগ্ধ বাতাস বয়ে গেল। বর্তমানের এই প্রতিযোগিতামূলক অস্থির সময়ে আমরা প্রায়ই একে অপরের প্রতি ঈর্ষা বা চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াই। কিন্তু যার মনে অহংকার নেই এবং যার আচরণে কৃত্রিমতা নেই, তার কাছে পৌঁছানো মাত্রই চারপাশের মানুষের মনের অস্থিরতা বা 'মানসিক ঝড়' থেমে যায়। এই নিরাপত্তা দিতে পারাটাই হলো ব্যক্তিত্বের শ্রেষ্ঠত্ব।

​সাধারণত আমরা মানুষের সাথে দেখা করি কোনো না কোনো প্রয়োজনে। কিন্তু আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী তারাই, যাদের কাছে যাওয়ার জন্য কোনো ওজুহাত বা কারণ লাগে না। মানুষ কেবল তাদের সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য ব্যাকুল থাকে। তারা কেবল চমৎকার কথা বলেন না, বরং তারা একজন 'নিভৃত শ্রোতা'। অন্যের কথা ধৈর্য ধরে শোনার এই ক্ষমতা তাদের এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যায় যে, মানুষ তাদের পাশে বসে থাকাটাকেই পরম পাওয়া মনে করে।

​​যান্ত্রিক এই জীবনে আমরা সবাই কম-বেশি ক্লান্ত। অধিকাংশ মানুষের সঙ্গ আমাদের মানসিক ক্লান্তি আরও বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্বের মানুষেরা নেতিবাচকতার ভিড়েও ইতিবাচকতার মশাল বয়ে বেড়ান। তারা অন্যের মানসিক বোঝা হালকা করতে পারেন। তাদের সাহচর্য মানুষকে ক্লান্ত করে না, বরং নতুন করে বেঁচে থাকার রসদ দেয়। অন্যের অন্তরে আনন্দের বীজ বপন করার এই ক্ষমতা বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বিরল একটি গুণ।

​​ব্যক্তিত্বের আসল পরীক্ষা হয় মানুষের অনুপস্থিতিতে। একজন মানুষ চলে যাওয়ার পর যদি তার অভাব বোধ না হয়, তবে বুঝতে হবে তার ব্যক্তিত্বে গভীরতা ছিল না। প্রকৃত ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষের কাছে থাকলে মানুষ নিজের এক 'সুখী সংস্করণ'কে খুঁজে পায়। তাই তারা যখন দূরে থাকে, মানুষ আসলে সেই সুখী নিজেকেই মিস করে। হাসতে শেখানো এবং জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে দেওয়ার এই সম্মোহনী শক্তিই মানুষকে বারবার ফিরিয়ে আনে প্রিয় সেই মানুষটির কাছে।

ব্যক্তিত্ব কোনো সস্তা অলংকার নয়, এটি অর্জনের বিষয়। অন্যের মনে স্বস্তি ফেরানো এবং জীবনের প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তোলাটাই হলো প্রকৃত ব্যক্তিত্বের শিল্পরূপ। এটিই পৃথিবীতে শান্তির প্রকৃত বারতা বয়ে আনে।

লেখক,

হাফিজুল ইসলাম লস্কর

সাংগঠনিক সম্পাদক- বৃহত্তর সিলেট জেলা অনলাইন প্রেসক্লাব,

স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা সম্পাদক- বিএমএসএস কেন্দ্রীয় কমিটি।

সম্পাদক ও প্রকাশক- শব্দের আলাপন।

সদস্য সচিব- আল-ইখওয়ান সোসাইটি।

সদস্য- বাংলাদেশ সাহিত্য পরিষদ।

সাবেক শিক্ষক- জামেয়া দারুল উলূম সিলেট।

আপনার মতামত লিখুন

 আলোর সন্ধানে প্রতিদিন

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬


ব্যক্তিত্বের শিল্পরূপ: অন্যের মনে প্রশান্তির বীজ

প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬

featured Image

হাফিজুল ইসলাম লস্কর

পৃথিবীতে মানুষের অভাব নেই, কিন্তু 'মানুষের মতো মানুষ' বা ইতিবাচক ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষের বড্ড অভাব। আমরা এমন এক যুগে বাস করছি যেখানে বাহ্যিক চাকচিক্য আর যান্ত্রিকতা আমাদের গ্রাস করে ফেলেছে। অথচ জীবনের সার্থকতা কেবল নিজের উন্নতিতে নয়, বরং অন্যের মনে প্রশান্তির বীজ বপন করার মধ্যে। একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় ফুটে ওঠে তার ব্যক্তিত্বের শিল্পরূপে।

​একটি আদর্শ ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার উপস্থিতি। কিছু মানুষ ঘরে ঢুকলে মনে হয় যেন একরাশ স্নিগ্ধ বাতাস বয়ে গেল। বর্তমানের এই প্রতিযোগিতামূলক অস্থির সময়ে আমরা প্রায়ই একে অপরের প্রতি ঈর্ষা বা চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াই। কিন্তু যার মনে অহংকার নেই এবং যার আচরণে কৃত্রিমতা নেই, তার কাছে পৌঁছানো মাত্রই চারপাশের মানুষের মনের অস্থিরতা বা 'মানসিক ঝড়' থেমে যায়। এই নিরাপত্তা দিতে পারাটাই হলো ব্যক্তিত্বের শ্রেষ্ঠত্ব।

​সাধারণত আমরা মানুষের সাথে দেখা করি কোনো না কোনো প্রয়োজনে। কিন্তু আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী তারাই, যাদের কাছে যাওয়ার জন্য কোনো ওজুহাত বা কারণ লাগে না। মানুষ কেবল তাদের সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য ব্যাকুল থাকে। তারা কেবল চমৎকার কথা বলেন না, বরং তারা একজন 'নিভৃত শ্রোতা'। অন্যের কথা ধৈর্য ধরে শোনার এই ক্ষমতা তাদের এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যায় যে, মানুষ তাদের পাশে বসে থাকাটাকেই পরম পাওয়া মনে করে।

​​যান্ত্রিক এই জীবনে আমরা সবাই কম-বেশি ক্লান্ত। অধিকাংশ মানুষের সঙ্গ আমাদের মানসিক ক্লান্তি আরও বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্বের মানুষেরা নেতিবাচকতার ভিড়েও ইতিবাচকতার মশাল বয়ে বেড়ান। তারা অন্যের মানসিক বোঝা হালকা করতে পারেন। তাদের সাহচর্য মানুষকে ক্লান্ত করে না, বরং নতুন করে বেঁচে থাকার রসদ দেয়। অন্যের অন্তরে আনন্দের বীজ বপন করার এই ক্ষমতা বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বিরল একটি গুণ।

​​ব্যক্তিত্বের আসল পরীক্ষা হয় মানুষের অনুপস্থিতিতে। একজন মানুষ চলে যাওয়ার পর যদি তার অভাব বোধ না হয়, তবে বুঝতে হবে তার ব্যক্তিত্বে গভীরতা ছিল না। প্রকৃত ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষের কাছে থাকলে মানুষ নিজের এক 'সুখী সংস্করণ'কে খুঁজে পায়। তাই তারা যখন দূরে থাকে, মানুষ আসলে সেই সুখী নিজেকেই মিস করে। হাসতে শেখানো এবং জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে দেওয়ার এই সম্মোহনী শক্তিই মানুষকে বারবার ফিরিয়ে আনে প্রিয় সেই মানুষটির কাছে।

ব্যক্তিত্ব কোনো সস্তা অলংকার নয়, এটি অর্জনের বিষয়। অন্যের মনে স্বস্তি ফেরানো এবং জীবনের প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তোলাটাই হলো প্রকৃত ব্যক্তিত্বের শিল্পরূপ। এটিই পৃথিবীতে শান্তির প্রকৃত বারতা বয়ে আনে।

লেখক,

হাফিজুল ইসলাম লস্কর

সাংগঠনিক সম্পাদক- বৃহত্তর সিলেট জেলা অনলাইন প্রেসক্লাব,

স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা সম্পাদক- বিএমএসএস কেন্দ্রীয় কমিটি।

সম্পাদক ও প্রকাশক- শব্দের আলাপন।

সদস্য সচিব- আল-ইখওয়ান সোসাইটি।

সদস্য- বাংলাদেশ সাহিত্য পরিষদ।

সাবেক শিক্ষক- জামেয়া দারুল উলূম সিলেট।


 আলোর সন্ধানে প্রতিদিন


কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আলোর সন্ধানে প্রতিদিন