আলোর সন্ধানে প্রতিদিন

সিসিটিভি প্রকল্পে দুর্নীতি: উত্তাল ওসমানীনগর, ইউএনও’র প্রত্যাহার ও চেয়ারম্যানের পুনর্বহালের দাবিতে তীব্র বিক্ষোভ



সিসিটিভি প্রকল্পে দুর্নীতি: উত্তাল ওসমানীনগর, ইউএনও’র প্রত্যাহার ও চেয়ারম্যানের পুনর্বহালের দাবিতে তীব্র বিক্ষোভ
মোঃ রাজন আহমদ এর ছবি

​নিজস্ব প্রতিবেদক, ওসমানীনগর (সিলেট)

 সিলেটের ওসমানীনগরে নির্বাচনি সিসিটিভি (সিসি ক্যামেরা) স্থাপন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা-র প্রত্যাহার এবং অপসারিত তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. কবির আহমদ-এর পুনর্বহালের দাবিতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গন।

​রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল থেকে তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে জড়ো হন স্থানীয় বিএনপি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। "দুর্নীতিবাজ ইউএনওর অপসারণ চাই" এবং "জনপ্রতিনিধির সম্মান ফিরিয়ে দাও" স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বিক্ষোভকারীরা দীর্ঘ সময় পরিষদ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ সভা করেন।

সূত্রমতে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি চেয়ারম্যান মো. কবির আহমদ প্রকাশ্যে সিসিটিভি প্রকল্পে সরকারি অর্থের অপব্যবহার ও স্বচ্ছতাহীনতার অভিযোগ তোলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ মার্চ ইউএনও মুনমুন নাহার আশা চেয়ারম্যানকে অপসারণের সুপারিশ করেন। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থাতেই গত ৩ এপ্রিল (শুক্রবার, সরকারি ছুটির দিন) জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম এক প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে চেয়ারম্যান কবির আহমদকে অপসারণ করে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেন।

তাজপুর ইউনিয়নে নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম তালুকদার দায়িত্ব গ্রহণ করতে গেলে স্থানীয় জনগণের তীব্র বাধার মুখে পড়েন। বিক্ষোভকারীরা আদালতের লিখিত আদেশ দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় এবং কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি ছাড়াই কেন এই "তড়িঘড়ি" সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো?

​অপসারিত চেয়ারম্যান মো. কবির আহমদ এই সিদ্ধান্তকে 'প্রশাসনিক প্রতিহিংসা' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি দাবি করেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় তাকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

​এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা'র মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের পক্ষ থেকেও কোনো সাড়া মেলেনি।

​বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বন্দ্ব এখন তুঙ্গে। বিষয়টি সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা অবহিত রয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত উচ্চ পর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কার্যকরী ব্যবস্থা না নিলে এই জনরোষ আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।

বিষয় : #bnp

আপনার মতামত লিখুন

 আলোর সন্ধানে প্রতিদিন

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


সিসিটিভি প্রকল্পে দুর্নীতি: উত্তাল ওসমানীনগর, ইউএনও’র প্রত্যাহার ও চেয়ারম্যানের পুনর্বহালের দাবিতে তীব্র বিক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

​নিজস্ব প্রতিবেদক, ওসমানীনগর (সিলেট)

 সিলেটের ওসমানীনগরে নির্বাচনি সিসিটিভি (সিসি ক্যামেরা) স্থাপন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা-র প্রত্যাহার এবং অপসারিত তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. কবির আহমদ-এর পুনর্বহালের দাবিতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গন।

​রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল থেকে তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে জড়ো হন স্থানীয় বিএনপি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। "দুর্নীতিবাজ ইউএনওর অপসারণ চাই" এবং "জনপ্রতিনিধির সম্মান ফিরিয়ে দাও" স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বিক্ষোভকারীরা দীর্ঘ সময় পরিষদ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ সভা করেন।

সূত্রমতে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি চেয়ারম্যান মো. কবির আহমদ প্রকাশ্যে সিসিটিভি প্রকল্পে সরকারি অর্থের অপব্যবহার ও স্বচ্ছতাহীনতার অভিযোগ তোলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ মার্চ ইউএনও মুনমুন নাহার আশা চেয়ারম্যানকে অপসারণের সুপারিশ করেন। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থাতেই গত ৩ এপ্রিল (শুক্রবার, সরকারি ছুটির দিন) জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম এক প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে চেয়ারম্যান কবির আহমদকে অপসারণ করে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেন।

তাজপুর ইউনিয়নে নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম তালুকদার দায়িত্ব গ্রহণ করতে গেলে স্থানীয় জনগণের তীব্র বাধার মুখে পড়েন। বিক্ষোভকারীরা আদালতের লিখিত আদেশ দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় এবং কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি ছাড়াই কেন এই "তড়িঘড়ি" সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো?

​অপসারিত চেয়ারম্যান মো. কবির আহমদ এই সিদ্ধান্তকে 'প্রশাসনিক প্রতিহিংসা' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি দাবি করেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় তাকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

​এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা'র মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের পক্ষ থেকেও কোনো সাড়া মেলেনি।

​বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বন্দ্ব এখন তুঙ্গে। বিষয়টি সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা অবহিত রয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত উচ্চ পর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কার্যকরী ব্যবস্থা না নিলে এই জনরোষ আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।


 আলোর সন্ধানে প্রতিদিন


কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আলোর সন্ধানে প্রতিদিন