নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেট সিলেট শহরের ৮ নং ওয়ার্ডের আাখালিয়া এলাকায় সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত ‘জগদীশের টিলা’ এখন দখলদার ও ভূমিদস্যুদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। সাবেক কাউন্সিলর জগদীশের প্রভাবে টিলাটির নামকরণ হলেও বর্তমানে এর নিয়ন্ত্রণ কামাল ও তার সহযোগীদের হাতে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি কয়েক একর ভূমি প্লট আকারে বিক্রি করে সাধারণ রাজমিস্ত্রি থেকে রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন এই কামাল। এবার এই চক্রের নেপথ্যে থাকা তিন কোটিপতির পরিচয় শনাক্ত করতে মাঠে নেমেছে প্রশাসন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জগদীশের টিলার প্রায় ৩-৪ একর জায়গা দখল করে ৭০-৮০টি পরিবারের কাছে বিক্রি করেছে কামাল ও তার সহযোগীরা। ২-৩ ডিসিমেল করে প্লট ভাগ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই চক্র। ভূমিহীনদের আবাসন দেওয়ার নামে ভুয়া খাজনার রশিদের মাধ্যমে মালিকানা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অসহায় মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে। এমনকি টিলার মাটি কেটে প্রতিনিয়ত বিক্রি করার অভিযোগও রয়েছে এই ‘কামাল বাহিনী’র বিরুদ্ধে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, টিলায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিয়মিত মাসিক ‘মাশোয়ারা’ দিতে হয় কামালকে। যারা টাকা দিতে অস্বীকার করে, তাদের উচ্ছেদ ও মামলার হুমকি দেওয়া হয়।
ভয় ও নীরবতা: কামালের দাপটে স্থানীয়রা মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন।
রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ: অবৈধভাবে অর্জিত এই বিপুল অর্থের গরমে কামালের বোন আগামী নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি কামাল এলাকায় প্রচার করছেন যে, সাবেক স্বৈরাচারী সরকারের বাহিনী এপ্রিলের শেষে পুনরায় মাঠে নামবে। এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে যাতে কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস না পায়।
প্রশাসনের ভূমিকা ও যোগসাজশের অভিযোগ
পার্শ্ববর্তী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সাথে যোগাযোগ করা হলেও এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর মেলেনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের একটি বড় অংশ এই ভাগবাটোয়ারার সাথে জড়িত থাকায় কামালের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
একটি স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছে, এই জায়গাটি প্রকৃত ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দ না দিয়ে একটি বিশেষ চক্র ভোগদখল করছে। তারা সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে যাতে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ভূমিহীনদের তালিকা তৈরি করা হয় এবং টিলার পরিবেশ রক্ষা করা হয়।
ভূমিহীন পরিবারগুলোর দাবি, সরকার যেন অবিলম্বে এই ‘লীজ বাণিজ্য’ বন্ধ করে এবং পতিত জমিগুলো জনকল্যাণে ব্যবহার করে। স্বৈরাচারের দোসর ও চাঁদাবাজদের হাত থেকে সরকারি সম্পদ রক্ষা করতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন আাখালিয়াবাসী।
[বিস্তারিত তথ্য নিয়ে আসছে পরবর্তী প্রতিবেদন...]
বিষয় : #সিলেট

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেট সিলেট শহরের ৮ নং ওয়ার্ডের আাখালিয়া এলাকায় সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত ‘জগদীশের টিলা’ এখন দখলদার ও ভূমিদস্যুদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। সাবেক কাউন্সিলর জগদীশের প্রভাবে টিলাটির নামকরণ হলেও বর্তমানে এর নিয়ন্ত্রণ কামাল ও তার সহযোগীদের হাতে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি কয়েক একর ভূমি প্লট আকারে বিক্রি করে সাধারণ রাজমিস্ত্রি থেকে রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন এই কামাল। এবার এই চক্রের নেপথ্যে থাকা তিন কোটিপতির পরিচয় শনাক্ত করতে মাঠে নেমেছে প্রশাসন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জগদীশের টিলার প্রায় ৩-৪ একর জায়গা দখল করে ৭০-৮০টি পরিবারের কাছে বিক্রি করেছে কামাল ও তার সহযোগীরা। ২-৩ ডিসিমেল করে প্লট ভাগ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই চক্র। ভূমিহীনদের আবাসন দেওয়ার নামে ভুয়া খাজনার রশিদের মাধ্যমে মালিকানা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অসহায় মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে। এমনকি টিলার মাটি কেটে প্রতিনিয়ত বিক্রি করার অভিযোগও রয়েছে এই ‘কামাল বাহিনী’র বিরুদ্ধে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, টিলায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিয়মিত মাসিক ‘মাশোয়ারা’ দিতে হয় কামালকে। যারা টাকা দিতে অস্বীকার করে, তাদের উচ্ছেদ ও মামলার হুমকি দেওয়া হয়।
ভয় ও নীরবতা: কামালের দাপটে স্থানীয়রা মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন।
রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ: অবৈধভাবে অর্জিত এই বিপুল অর্থের গরমে কামালের বোন আগামী নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি কামাল এলাকায় প্রচার করছেন যে, সাবেক স্বৈরাচারী সরকারের বাহিনী এপ্রিলের শেষে পুনরায় মাঠে নামবে। এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে যাতে কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস না পায়।
প্রশাসনের ভূমিকা ও যোগসাজশের অভিযোগ
পার্শ্ববর্তী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সাথে যোগাযোগ করা হলেও এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর মেলেনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের একটি বড় অংশ এই ভাগবাটোয়ারার সাথে জড়িত থাকায় কামালের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
একটি স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছে, এই জায়গাটি প্রকৃত ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দ না দিয়ে একটি বিশেষ চক্র ভোগদখল করছে। তারা সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে যাতে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ভূমিহীনদের তালিকা তৈরি করা হয় এবং টিলার পরিবেশ রক্ষা করা হয়।
ভূমিহীন পরিবারগুলোর দাবি, সরকার যেন অবিলম্বে এই ‘লীজ বাণিজ্য’ বন্ধ করে এবং পতিত জমিগুলো জনকল্যাণে ব্যবহার করে। স্বৈরাচারের দোসর ও চাঁদাবাজদের হাত থেকে সরকারি সম্পদ রক্ষা করতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন আাখালিয়াবাসী।
[বিস্তারিত তথ্য নিয়ে আসছে পরবর্তী প্রতিবেদন...]

আপনার মতামত লিখুন