সাকিব আল হাসান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে ভাইরাসজনিত রোগ হাম। গত তিন মাসে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে জেলায় চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। জেলা সদর, শিবগঞ্জ ও গোমস্তাপুরসহ বিভিন্ন উপজেলায় শিশুদের মধ্যে এই রোগের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, গত তিন মাসে প্রায় ৬০০ শিশু এই রোগের চিকিৎসা নিয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা গেছে, শিশু ও নবজাতক ওয়ার্ডে তিল ধারণের জায়গা নেই। মাত্র ২০টি শয্যার বিপরীতে ভর্তি রয়েছে ৭০ জনেরও বেশি শিশু। শয্যা সংকটের কারণে নিরুপায় হয়ে রোগীরা হাসপাতালের মেঝে ও সিঁড়িতে অবস্থান নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালের কিডনি ডায়ালাইসিস ওয়ার্ডকে অস্থায়ী আইসোলেশন ওয়ার্ডে রূপান্তর করা হয়েছে। সেখানেও গাদাগাদি করে চিকিৎসা চলছে শতাধিক শিশুর।
আক্রান্ত শিশুদের বেশিরভাগেরই বয়স ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আক্রান্তদের মধ্যে অনেকেরই নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) পূর্ণ করা ছিল না। এছাড়া জেলায় গুরুতর অসুস্থ শিশুদের জন্য কোনো নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (ICU) না থাকায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
শিশুর স্বজনরা জানান, হাম একটি ছোঁয়াচে রোগ হওয়া সত্ত্বেও গাদাগাদি করে মেঝেতে অবস্থান করায় একজনের থেকে অন্যজনে সংক্রমণ ছড়ানোর তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। সদর উপজেলার সুন্দরপুর থেকে আসা অভিভাবক হোসেন আলী জানান, সাধারণ জ্বর ভেবে অবহেলা করলেও শরীরে লাল দানা দেখে তিনি দ্রুত হাসপাতালে ছুটে আসেন। জেলার শিশু ও নবজাতক বিশেষজ্ঞ মাহফুজ রায়হান সংক্রমণের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দিন জানান: আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত আইসোলেশনে (আলাদা রাখা) রাখতে হবে।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং হাঁচি-কাশির সময় সতর্কতা অবলম্বন জরুরি।
জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে এবং উপসর্গ দেখামাত্রই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং সচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ মার্চ ২০২৬
সাকিব আল হাসান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে ভাইরাসজনিত রোগ হাম। গত তিন মাসে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে জেলায় চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। জেলা সদর, শিবগঞ্জ ও গোমস্তাপুরসহ বিভিন্ন উপজেলায় শিশুদের মধ্যে এই রোগের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, গত তিন মাসে প্রায় ৬০০ শিশু এই রোগের চিকিৎসা নিয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা গেছে, শিশু ও নবজাতক ওয়ার্ডে তিল ধারণের জায়গা নেই। মাত্র ২০টি শয্যার বিপরীতে ভর্তি রয়েছে ৭০ জনেরও বেশি শিশু। শয্যা সংকটের কারণে নিরুপায় হয়ে রোগীরা হাসপাতালের মেঝে ও সিঁড়িতে অবস্থান নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালের কিডনি ডায়ালাইসিস ওয়ার্ডকে অস্থায়ী আইসোলেশন ওয়ার্ডে রূপান্তর করা হয়েছে। সেখানেও গাদাগাদি করে চিকিৎসা চলছে শতাধিক শিশুর।
আক্রান্ত শিশুদের বেশিরভাগেরই বয়স ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আক্রান্তদের মধ্যে অনেকেরই নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) পূর্ণ করা ছিল না। এছাড়া জেলায় গুরুতর অসুস্থ শিশুদের জন্য কোনো নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (ICU) না থাকায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
শিশুর স্বজনরা জানান, হাম একটি ছোঁয়াচে রোগ হওয়া সত্ত্বেও গাদাগাদি করে মেঝেতে অবস্থান করায় একজনের থেকে অন্যজনে সংক্রমণ ছড়ানোর তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। সদর উপজেলার সুন্দরপুর থেকে আসা অভিভাবক হোসেন আলী জানান, সাধারণ জ্বর ভেবে অবহেলা করলেও শরীরে লাল দানা দেখে তিনি দ্রুত হাসপাতালে ছুটে আসেন। জেলার শিশু ও নবজাতক বিশেষজ্ঞ মাহফুজ রায়হান সংক্রমণের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দিন জানান: আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত আইসোলেশনে (আলাদা রাখা) রাখতে হবে।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং হাঁচি-কাশির সময় সতর্কতা অবলম্বন জরুরি।
জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে এবং উপসর্গ দেখামাত্রই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং সচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন