ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সম্প্রসারণে ভূমি অধিগ্রহণে মূল্যে চরম বৈষম্য ন্যায্য মূল্য দাবিতে ওসমানীনগরে ভূমি মালিকদের মানববন্ধন
ওসমানীনগর প্রতিনিধি:
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পকে ঘিরে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার ইলাশপুর, দুনিয়ার বন্দ ও বরায়া মৌজায় ভূমি অধিগ্রহণে মূল্য নির্ধারণে চরম বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার তাজপুর বাজারে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে আয়োজিত এ মানববন্ধনে ভুক্তভোগী ভূমি মালিকরা অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচিতে বক্তারা অভিযোগ করেন, চলমান ৬ লেন মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় যেসব মালিকানাধীন ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, সেসব জমির মূল্য অস্বাভাবিকভাবে কম নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং অগ্রহণযোগ্য।
বক্তারা বলেন, ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজার ও তাজপুর বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় ভূমির প্রকৃত মূল্য অত্যন্ত উচ্চ হলেও অধিগ্রহণযোগ্য জমির প্রতি শতক অত্যন্ত স্বল্পমূল্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। তাদের দাবি, এ ধরনের মূল্য নির্ধারণ বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং ভূমি মালিকদের প্রতি সুস্পষ্ট অবিচারের শামিল।
তারা আরও অভিযোগ করেন, বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জমিকে ‘নাল’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া গুরুতর অনিয়মের ইঙ্গিত বহন করে। যেখানে একই এলাকায় প্রতি শতক জমির মূল্য কোটি টাকায় পৌছালেও মালিকরা তা বিক্রয়ে অনাগ্রহী, সেখানে অধিগ্রহণযোগ্য জমির অযৌক্তিকভাবে নিম্নমূল্য নির্ধারণে তারা বিস্ময় ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ভূমি মালিকদের তথ্য অনুযায়ী, ওসমানীনগর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সর্বশেষ এসেসমেন্টে তাজপুর ইউনিয়নের দুলিয়ারবন্দ মৌজায় প্রতি শতক দোকানভিটার মূল্য ১৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, বরায়া মৌজায় ৮ লাখ ৭৪ হাজার ৭৭০ টাকা এবং গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের গ্রামতলা মৌজায় সর্বনিম্ন মূল্য ১৮ লাখ টাকার অধিক নির্ধারিত রয়েছে। অথচ এসব জমির মূল্য কীভাবে এতো স্বল্প মূল্য নির্ধারণ করা হলো সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে বাস্তবসম্মত ও ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করে ক্ষতিপূরণ পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেন ভুক্তভোগী ভূমি মালিকরা। এ লক্ষ্যে ভূমি উপদেষ্টা, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচির পূর্বে তাজপুর সাব-রেজিস্ট্রার বরাবরে লিখিত আবেদন দাখিল করা হয় এবং কর্মসূচি শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন ভূমি মালিকরা।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী ময়না মিয়ার সভাপতিত্বে এবং সমাজসেবী জাহেদ আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ফারুক জাহাঙ্গীর, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী শাহ খালিছ মিনার, হাজী শায়েক আহমদ, আলা হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, কাজী আব্দুল সালাম, শাহ মোনায়েম, জুবায়ের আহমদ মজনু, সোহেল আহমদ, জুবায়ের আহমদ, মামুন ইসলাম, তাজ উল্লাহ, ফরিদুজ্জামানসহ ভুক্তভোগী অসংখ্য ভূমি মালিক বৃন্দ।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সম্প্রসারণে ভূমি অধিগ্রহণে মূল্যে চরম বৈষম্য ন্যায্য মূল্য দাবিতে ওসমানীনগরে ভূমি মালিকদের মানববন্ধন
ওসমানীনগর প্রতিনিধি:
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পকে ঘিরে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার ইলাশপুর, দুনিয়ার বন্দ ও বরায়া মৌজায় ভূমি অধিগ্রহণে মূল্য নির্ধারণে চরম বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার তাজপুর বাজারে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে আয়োজিত এ মানববন্ধনে ভুক্তভোগী ভূমি মালিকরা অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচিতে বক্তারা অভিযোগ করেন, চলমান ৬ লেন মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় যেসব মালিকানাধীন ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, সেসব জমির মূল্য অস্বাভাবিকভাবে কম নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং অগ্রহণযোগ্য।
বক্তারা বলেন, ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজার ও তাজপুর বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় ভূমির প্রকৃত মূল্য অত্যন্ত উচ্চ হলেও অধিগ্রহণযোগ্য জমির প্রতি শতক অত্যন্ত স্বল্পমূল্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। তাদের দাবি, এ ধরনের মূল্য নির্ধারণ বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং ভূমি মালিকদের প্রতি সুস্পষ্ট অবিচারের শামিল।
তারা আরও অভিযোগ করেন, বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জমিকে ‘নাল’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া গুরুতর অনিয়মের ইঙ্গিত বহন করে। যেখানে একই এলাকায় প্রতি শতক জমির মূল্য কোটি টাকায় পৌছালেও মালিকরা তা বিক্রয়ে অনাগ্রহী, সেখানে অধিগ্রহণযোগ্য জমির অযৌক্তিকভাবে নিম্নমূল্য নির্ধারণে তারা বিস্ময় ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ভূমি মালিকদের তথ্য অনুযায়ী, ওসমানীনগর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সর্বশেষ এসেসমেন্টে তাজপুর ইউনিয়নের দুলিয়ারবন্দ মৌজায় প্রতি শতক দোকানভিটার মূল্য ১৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, বরায়া মৌজায় ৮ লাখ ৭৪ হাজার ৭৭০ টাকা এবং গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের গ্রামতলা মৌজায় সর্বনিম্ন মূল্য ১৮ লাখ টাকার অধিক নির্ধারিত রয়েছে। অথচ এসব জমির মূল্য কীভাবে এতো স্বল্প মূল্য নির্ধারণ করা হলো সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে বাস্তবসম্মত ও ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করে ক্ষতিপূরণ পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেন ভুক্তভোগী ভূমি মালিকরা। এ লক্ষ্যে ভূমি উপদেষ্টা, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচির পূর্বে তাজপুর সাব-রেজিস্ট্রার বরাবরে লিখিত আবেদন দাখিল করা হয় এবং কর্মসূচি শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন ভূমি মালিকরা।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী ময়না মিয়ার সভাপতিত্বে এবং সমাজসেবী জাহেদ আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ফারুক জাহাঙ্গীর, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী শাহ খালিছ মিনার, হাজী শায়েক আহমদ, আলা হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, কাজী আব্দুল সালাম, শাহ মোনায়েম, জুবায়ের আহমদ মজনু, সোহেল আহমদ, জুবায়ের আহমদ, মামুন ইসলাম, তাজ উল্লাহ, ফরিদুজ্জামানসহ ভুক্তভোগী অসংখ্য ভূমি মালিক বৃন্দ।

আপনার মতামত লিখুন