মোঃ রাজন আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় সরকারি রাস্তা দাবি করে মালিকানাধীন জমিতে সীমানা খুঁটি স্থাপন এবং পাকা সীমানা প্রাচীর ভাঙার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সার্ভেয়ার অমর ফারুকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের কুরুয়া গ্রামের হাজী হিরণ মিয়ার ছেলে মারুফ আহমদ জুবেল গত ২৯ জুলাই ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক থেকে কুরুয়া চতলিবন পর্যন্ত একটি গ্রামীণ সড়কের পাশে তাদের মালিকানাধীন ভূমি রয়েছে। গত ২৮ জুলাই উপজেলা সার্ভেয়ার অমর ফারুক সরকারি রাস্তা পরিমাপ করতে গিয়ে পার্শ্ববর্তী ভূমির মালিকদের উপস্থিতি ছাড়াই রাস্তার বিদ্যমান অংশ রেখে তাদের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ভেতরে সরকারি সীমানা হিসেবে খুঁটি স্থাপন করেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, হাজী হিরণ মিয়া, হাজী আব্দুল হক ও আবুল খয়েরের বাড়ির সীমানা থেকে প্রায় চার ফুট ভেতরে খুঁটি স্থাপন করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে মারুফ আহমদ জুবেল ঘটনাস্থলে গিয়ে আপত্তি জানালে সার্ভেয়ার তাকে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আইনি ব্যবস্থার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সার্ভেয়ারের নির্দেশে পরদিন সকালে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি কুরুয়া হেলথ সেন্টারের সীমানা প্রাচীর ভেঙে সেখানে ইট ও বাঁশের খুঁটি স্থাপন করেন। বাধা দিতে গেলে আবুল খয়েরের মেয়ে ডলি বেগমকেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাবুল মিয়া বলেন, “সরকারি রাস্তা হওয়ায় সার্ভেয়ারের নির্দেশ অনুযায়ী রাস্তা পরিষ্কার করা হয়েছে।” একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন আব্বাস মিয়া ও সুরুজ আলী গেদা। তাদের দাবি, চলাচলের সুবিধার্থেই সীমানা অপসারণ করা হয়েছে।
তবে সার্ভেয়ার অমর ফারুক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি শুধু সরকারি রাস্তার সীমানা নির্ধারণ করেছি। কোনো দেয়াল ভাঙার নির্দেশ দিইনি। আবেদনকারীদের আগেই আশপাশের ভূমির মালিকদের উপস্থিত রাখতে বলা হয়েছিল এবং স্থানীয়দের উপস্থিতিতেই পরিমাপ করা হয়েছে।”
অভিযোগকারী মারুফ আহমদ জুবেল বলেন, “সরকারি রাস্তার প্রস্থ বিভিন্ন স্থানে ৭ থেকে ১০ ফুট। গ্রামবাসীর সুবিধার্থে আমরা নিজেরাই ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ছেড়ে রাস্তা ১৩ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত করেছি। এরপরও বিদ্যমান রাস্তা রেখে আমাদের জমির ভেতরে খুঁটি স্থাপন করায় আমরা বিস্মিত।”
এ বিষয়ে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সার্ভেয়ার দেয়াল ভাঙার নির্দেশ দিয়েছেন—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে পুনরায় রাস্তা পরিমাপ করা হবে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬
মোঃ রাজন আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় সরকারি রাস্তা দাবি করে মালিকানাধীন জমিতে সীমানা খুঁটি স্থাপন এবং পাকা সীমানা প্রাচীর ভাঙার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সার্ভেয়ার অমর ফারুকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের কুরুয়া গ্রামের হাজী হিরণ মিয়ার ছেলে মারুফ আহমদ জুবেল গত ২৯ জুলাই ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক থেকে কুরুয়া চতলিবন পর্যন্ত একটি গ্রামীণ সড়কের পাশে তাদের মালিকানাধীন ভূমি রয়েছে। গত ২৮ জুলাই উপজেলা সার্ভেয়ার অমর ফারুক সরকারি রাস্তা পরিমাপ করতে গিয়ে পার্শ্ববর্তী ভূমির মালিকদের উপস্থিতি ছাড়াই রাস্তার বিদ্যমান অংশ রেখে তাদের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ভেতরে সরকারি সীমানা হিসেবে খুঁটি স্থাপন করেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, হাজী হিরণ মিয়া, হাজী আব্দুল হক ও আবুল খয়েরের বাড়ির সীমানা থেকে প্রায় চার ফুট ভেতরে খুঁটি স্থাপন করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে মারুফ আহমদ জুবেল ঘটনাস্থলে গিয়ে আপত্তি জানালে সার্ভেয়ার তাকে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আইনি ব্যবস্থার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সার্ভেয়ারের নির্দেশে পরদিন সকালে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি কুরুয়া হেলথ সেন্টারের সীমানা প্রাচীর ভেঙে সেখানে ইট ও বাঁশের খুঁটি স্থাপন করেন। বাধা দিতে গেলে আবুল খয়েরের মেয়ে ডলি বেগমকেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাবুল মিয়া বলেন, “সরকারি রাস্তা হওয়ায় সার্ভেয়ারের নির্দেশ অনুযায়ী রাস্তা পরিষ্কার করা হয়েছে।” একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন আব্বাস মিয়া ও সুরুজ আলী গেদা। তাদের দাবি, চলাচলের সুবিধার্থেই সীমানা অপসারণ করা হয়েছে।
তবে সার্ভেয়ার অমর ফারুক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি শুধু সরকারি রাস্তার সীমানা নির্ধারণ করেছি। কোনো দেয়াল ভাঙার নির্দেশ দিইনি। আবেদনকারীদের আগেই আশপাশের ভূমির মালিকদের উপস্থিত রাখতে বলা হয়েছিল এবং স্থানীয়দের উপস্থিতিতেই পরিমাপ করা হয়েছে।”
অভিযোগকারী মারুফ আহমদ জুবেল বলেন, “সরকারি রাস্তার প্রস্থ বিভিন্ন স্থানে ৭ থেকে ১০ ফুট। গ্রামবাসীর সুবিধার্থে আমরা নিজেরাই ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ছেড়ে রাস্তা ১৩ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত করেছি। এরপরও বিদ্যমান রাস্তা রেখে আমাদের জমির ভেতরে খুঁটি স্থাপন করায় আমরা বিস্মিত।”
এ বিষয়ে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সার্ভেয়ার দেয়াল ভাঙার নির্দেশ দিয়েছেন—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে পুনরায় রাস্তা পরিমাপ করা হবে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আপনার মতামত লিখুন