আলোর সন্ধানে প্রতিদিন

ওসমানীনগরে সামাজিক বনায়নের গাছ লুট: ভুয়া চালানে ইউএনওকে বিভ্রান্তের চেষ্টা



ওসমানীনগরে সামাজিক বনায়নের গাছ লুট: ভুয়া চালানে ইউএনওকে বিভ্রান্তের চেষ্টা
ছবি সংগ্রহ মোঃ রাজন আহমদ

মোঃ রাজন আহমদ, 

নির্বহী সম্পাদক 

সরকারের পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলমান থাকলেও সিলেটের ওসমানীনগরে সামাজিক বনায়নের সরকারি গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। ভুয়া কাগজপত্র ও ব্যাংক চালান দেখিয়ে উপজেলা প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করারও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক সংলগ্ন বুরুঙ্গাবাজার আঞ্চলিক সড়কের মুখ থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা মূল্যের একটি বড় রেইনট্রি (শিরীষ) গাছ অবৈধভাবে কেটে নিয়ে যায় চক্রটি। এ ঘটনায় গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের কলারই গ্রামের কামাল হোসেন, পূর্ব ব্রাহ্মণগ্রামের আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সড়কের পাশের সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করে আসছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বন বিভাগের অনুমতি এবং উপজেলা প্রশাসনের ছাড়পত্র রয়েছে—এমন দাবি করে ভুয়া কাগজপত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে গাছটি কাটার চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা তাৎক্ষণিকভাবে ইউনিয়ন ভূমি অফিসার রওশন আরাকে গাছটি জব্দের নির্দেশ দেন। তবে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই কামাল হোসেন ও তার সহযোগীরা গাছের অধিকাংশ অংশ কেটে সরিয়ে নেয়। পরে অবশিষ্ট অংশ জব্দ করা হয়।

ঘটনার পর জব্দকৃত গাছের নিলামের দাবি তুলে কামালের সহযোগী মকবুল ইউএনও কার্যালয়ে একটি ব্যাংক চালান জমা দিয়ে দাবি করেন, গাছের মূল্য সোনালী ব্যাংক তাজপুর শাখায় জমা দেওয়া হয়েছে। চালানের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে এবং ইউএনও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালে তিনি স্বীকার করেন, কামাল হোসেনের কাছ থেকে ৮ হাজার টাকায় গাছটি কিনেছেন। পরে বৈধ কাগজপত্র দাখিলের জন্য একদিন সময় চান।

সিলেট বন বিভাগের ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. নাজমুল হোসেন জানান, ২০২৩ সালে ওই এলাকার কোনো গাছ কাটার অনুমতি বা নিলাম বন বিভাগ দেয়নি। উপজেলা বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি সাবেক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তা মাসুম আহমেদ বলেন, মহাসড়কের ‘রাইট অব ওয়ে’ এলাকায় সরকারি গাছ কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা বলেন, সরকারি সম্পদ রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। ভুয়া কাগজপত্র ও ব্যাংক চালান দিয়ে প্রতারণার চেষ্টা গুরুতর অপরাধ। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরেজমিন তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

বুরুঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছালিকুর রহমান এবং ইউনিয়ন ভূমি অফিসার রওশন আরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাঁদের অভিযোগ, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সামাজিক বনায়নের অবশিষ্ট গাছও একই চক্রের হাতে উজাড় হয়ে যাবে।

বিষয় : #osmani Nagar #সিলেট #বিশ্বনাথ উপজেলা #জামাল পুর #গোপালগঞ্জ #আমারদশ #ঢাকা

আপনার মতামত লিখুন

 আলোর সন্ধানে প্রতিদিন

রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬


ওসমানীনগরে সামাজিক বনায়নের গাছ লুট: ভুয়া চালানে ইউএনওকে বিভ্রান্তের চেষ্টা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

মোঃ রাজন আহমদ, 

নির্বহী সম্পাদক 

সরকারের পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলমান থাকলেও সিলেটের ওসমানীনগরে সামাজিক বনায়নের সরকারি গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। ভুয়া কাগজপত্র ও ব্যাংক চালান দেখিয়ে উপজেলা প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করারও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক সংলগ্ন বুরুঙ্গাবাজার আঞ্চলিক সড়কের মুখ থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা মূল্যের একটি বড় রেইনট্রি (শিরীষ) গাছ অবৈধভাবে কেটে নিয়ে যায় চক্রটি। এ ঘটনায় গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের কলারই গ্রামের কামাল হোসেন, পূর্ব ব্রাহ্মণগ্রামের আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সড়কের পাশের সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করে আসছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বন বিভাগের অনুমতি এবং উপজেলা প্রশাসনের ছাড়পত্র রয়েছে—এমন দাবি করে ভুয়া কাগজপত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে গাছটি কাটার চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা তাৎক্ষণিকভাবে ইউনিয়ন ভূমি অফিসার রওশন আরাকে গাছটি জব্দের নির্দেশ দেন। তবে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই কামাল হোসেন ও তার সহযোগীরা গাছের অধিকাংশ অংশ কেটে সরিয়ে নেয়। পরে অবশিষ্ট অংশ জব্দ করা হয়।

ঘটনার পর জব্দকৃত গাছের নিলামের দাবি তুলে কামালের সহযোগী মকবুল ইউএনও কার্যালয়ে একটি ব্যাংক চালান জমা দিয়ে দাবি করেন, গাছের মূল্য সোনালী ব্যাংক তাজপুর শাখায় জমা দেওয়া হয়েছে। চালানের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে এবং ইউএনও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালে তিনি স্বীকার করেন, কামাল হোসেনের কাছ থেকে ৮ হাজার টাকায় গাছটি কিনেছেন। পরে বৈধ কাগজপত্র দাখিলের জন্য একদিন সময় চান।

সিলেট বন বিভাগের ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. নাজমুল হোসেন জানান, ২০২৩ সালে ওই এলাকার কোনো গাছ কাটার অনুমতি বা নিলাম বন বিভাগ দেয়নি। উপজেলা বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি সাবেক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তা মাসুম আহমেদ বলেন, মহাসড়কের ‘রাইট অব ওয়ে’ এলাকায় সরকারি গাছ কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা বলেন, সরকারি সম্পদ রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। ভুয়া কাগজপত্র ও ব্যাংক চালান দিয়ে প্রতারণার চেষ্টা গুরুতর অপরাধ। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরেজমিন তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

বুরুঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছালিকুর রহমান এবং ইউনিয়ন ভূমি অফিসার রওশন আরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাঁদের অভিযোগ, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সামাজিক বনায়নের অবশিষ্ট গাছও একই চক্রের হাতে উজাড় হয়ে যাবে।


 আলোর সন্ধানে প্রতিদিন


কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আলোর সন্ধানে প্রতিদিন