আলোর সন্ধানে প্রতিদিন

ওসমানীনগরে যুবদল কর্মী তুরন মিয়ার দাফন সম্পন্ন; পরিবার ও এলাকাবাসীর হত্যার অভিযোগ



ওসমানীনগরে যুবদল কর্মী তুরন মিয়ার দাফন সম্পন্ন; পরিবার ও এলাকাবাসীর হত্যার অভিযোগ
ছবি সংগ্রহ মোঃ রাজন আহমদ

মোঃ রাজন আহমদ, 

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা-এ নিজ বসতঘরের শয়নকক্ষ থেকে উদ্ধার হওয়া যুবদল কর্মী তুরন মিয়া (৪৬)-এর মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে জানাজা সম্পন্ন করে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার (২০ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর রাইকদারা জামে মসজিদে বাদ আসর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

জানাজায় উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন দয়ামীর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুর উদ্দিন আহমদ নুনু। তিনি বলেন, তুরন মিয়া যুবদলের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। সরকারি রাস্তার কাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের প্রতিবাদ করায় তাকে তার নিজ বসতঘরে ঢুকে মারধর করা হয়। পরে তিনি প্রতিকার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও প্রভাবশালী মহলের কারণে বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি। তিনি দাবি করেন, পূর্ব বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তুরন মিয়াকে হত্যা করা হয়েছে।

উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গয়াছ মিয়া বলেন, “তুরন মিয়া একজন সাধারণ ও শান্তিপ্রিয় মানুষ ছিলেন। তার মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।”

নিহতের ছোট ভাই এলাইছ মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন, রাস্তার কাজের অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই তার ভাইকে চাচাতো ভাইসহ কয়েকজন মিলে হত্যা করেছে। তিনি ভাই হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

জানাজায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইমাদ উদ্দিন লিলু এবং জামায়াত নেতা আব্দুল কাইয়ুম।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুর ১টার দিকে দয়ামীর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর রাইকদাড়া গ্রামের নিজ বসতঘরের শয়নকক্ষ থেকে তুরন মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এর আগে, গত ৬ জুন সকালে সরকারি রাস্তার কাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের প্রতিবাদ করলে তুরন মিয়াকে তার বসতঘরে ঢুকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও তা মামলা হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়নি বলে পরিবারের দাবি।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

বিষয় : #osmani Nagar #সিলেট #বিশ্বনাথ উপজেলা #জামাল পুর #গোপালগঞ্জ

আপনার মতামত লিখুন

 আলোর সন্ধানে প্রতিদিন

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬


ওসমানীনগরে যুবদল কর্মী তুরন মিয়ার দাফন সম্পন্ন; পরিবার ও এলাকাবাসীর হত্যার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬

featured Image

মোঃ রাজন আহমদ, 

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা-এ নিজ বসতঘরের শয়নকক্ষ থেকে উদ্ধার হওয়া যুবদল কর্মী তুরন মিয়া (৪৬)-এর মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে জানাজা সম্পন্ন করে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার (২০ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর রাইকদারা জামে মসজিদে বাদ আসর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

জানাজায় উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন দয়ামীর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুর উদ্দিন আহমদ নুনু। তিনি বলেন, তুরন মিয়া যুবদলের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। সরকারি রাস্তার কাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের প্রতিবাদ করায় তাকে তার নিজ বসতঘরে ঢুকে মারধর করা হয়। পরে তিনি প্রতিকার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও প্রভাবশালী মহলের কারণে বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি। তিনি দাবি করেন, পূর্ব বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তুরন মিয়াকে হত্যা করা হয়েছে।

উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গয়াছ মিয়া বলেন, “তুরন মিয়া একজন সাধারণ ও শান্তিপ্রিয় মানুষ ছিলেন। তার মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।”

নিহতের ছোট ভাই এলাইছ মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন, রাস্তার কাজের অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই তার ভাইকে চাচাতো ভাইসহ কয়েকজন মিলে হত্যা করেছে। তিনি ভাই হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

জানাজায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইমাদ উদ্দিন লিলু এবং জামায়াত নেতা আব্দুল কাইয়ুম।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুর ১টার দিকে দয়ামীর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর রাইকদাড়া গ্রামের নিজ বসতঘরের শয়নকক্ষ থেকে তুরন মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এর আগে, গত ৬ জুন সকালে সরকারি রাস্তার কাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের প্রতিবাদ করলে তুরন মিয়াকে তার বসতঘরে ঢুকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও তা মামলা হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়নি বলে পরিবারের দাবি।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।


 আলোর সন্ধানে প্রতিদিন


কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আলোর সন্ধানে প্রতিদিন