ওসমানীনগরে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই একটি ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। ভাটাটির কারণে কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতি, বায়ুদূষণ, ফসলহানি এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো প্রতিকার মেলেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের মাটিয়ানি কাদিপুর এলাকায় মেসার্স হক ব্রিক্স নামের ইটভাটাটি দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, পরিবেশগত বৈধ ছাড়পত্র বা প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া ভাটাটি পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি ইট তৈরির কাঁচামাল সংগ্রহে আশপাশের আবাদি জমি থেকে নির্বিচারে মাটি কাটা হচ্ছে, ফলে কৃষিজমি বড় বড় গর্তে পরিণত হয়ে চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
ভুক্তভোগী ও এলাকার বাসিন্দা নুজরুল ইসলাম জানান, গত বছরের ১৫ অক্টোবর সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। কিন্তু অভিযোগের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।
এছাড়া, ইটভাটার চিমনি থেকে প্রতিনিয়ত নির্গত ঘন কালো ধোঁয়া আশপাশের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। এর ফলে শিশু, বৃদ্ধ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কাশি, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রজনিত রোগের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, ভাটার পাশ দিয়েই রয়েছে এলাকার শিক্ষার্থীদের একমাত্র চলাচলের পথ। প্রতিদিন শতাধিক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে এই ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়েই যাতায়াত করছে, যা তাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুধু বায়ুদূষণেই সীমাবদ্ধ নয়, ইটভাটা থেকে নির্গত ছাই ও বর্জ্য আশপাশের কৃষিজমিতেও ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে, ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং স্থানীয় কৃষকরা ক্রমেই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন,যদি ইটভাটাটির বৈধ অনুমোদন না থাকে, তবে কীভাবে প্রকাশ্যে এর কার্যক্রম চলছে? আর অভিযোগের পরও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কেন দৃশ্যমান নয়?
অভিযোগের বিষয়ে ইটভাটার মালিক সিরাজুল হক বলেন,বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে পরিবেশ অধিদপ্তরের সনদ বিতরণ বন্ধ রয়েছে। তবে অনুমোদন ছাড়া কীভাবে ভাটা পরিচালিত হচ্ছে এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক ফাইজুল কবির জানান, নতুন করে অভিযোগ দাখিল করা হলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ইটভাটার পরিবেশগত ছাড়পত্র, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং কৃষিজমি কাটার অভিযোগ খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে দ্রুত ভাটাটির কার্যক্রম বন্ধসহ দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
ওসমানীনগরে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই একটি ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। ভাটাটির কারণে কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতি, বায়ুদূষণ, ফসলহানি এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো প্রতিকার মেলেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের মাটিয়ানি কাদিপুর এলাকায় মেসার্স হক ব্রিক্স নামের ইটভাটাটি দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, পরিবেশগত বৈধ ছাড়পত্র বা প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া ভাটাটি পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি ইট তৈরির কাঁচামাল সংগ্রহে আশপাশের আবাদি জমি থেকে নির্বিচারে মাটি কাটা হচ্ছে, ফলে কৃষিজমি বড় বড় গর্তে পরিণত হয়ে চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
ভুক্তভোগী ও এলাকার বাসিন্দা নুজরুল ইসলাম জানান, গত বছরের ১৫ অক্টোবর সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। কিন্তু অভিযোগের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।
এছাড়া, ইটভাটার চিমনি থেকে প্রতিনিয়ত নির্গত ঘন কালো ধোঁয়া আশপাশের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। এর ফলে শিশু, বৃদ্ধ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কাশি, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রজনিত রোগের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, ভাটার পাশ দিয়েই রয়েছে এলাকার শিক্ষার্থীদের একমাত্র চলাচলের পথ। প্রতিদিন শতাধিক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে এই ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়েই যাতায়াত করছে, যা তাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুধু বায়ুদূষণেই সীমাবদ্ধ নয়, ইটভাটা থেকে নির্গত ছাই ও বর্জ্য আশপাশের কৃষিজমিতেও ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে, ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং স্থানীয় কৃষকরা ক্রমেই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন,যদি ইটভাটাটির বৈধ অনুমোদন না থাকে, তবে কীভাবে প্রকাশ্যে এর কার্যক্রম চলছে? আর অভিযোগের পরও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কেন দৃশ্যমান নয়?
অভিযোগের বিষয়ে ইটভাটার মালিক সিরাজুল হক বলেন,বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে পরিবেশ অধিদপ্তরের সনদ বিতরণ বন্ধ রয়েছে। তবে অনুমোদন ছাড়া কীভাবে ভাটা পরিচালিত হচ্ছে এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক ফাইজুল কবির জানান, নতুন করে অভিযোগ দাখিল করা হলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ইটভাটার পরিবেশগত ছাড়পত্র, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং কৃষিজমি কাটার অভিযোগ খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে দ্রুত ভাটাটির কার্যক্রম বন্ধসহ দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

আপনার মতামত লিখুন