মোঃ রাজন আহমদ:
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার বুরুঙ্গা ইউনিয়নের বুরুঙ্গা বাজার সংযোগ সড়কের প্রায় ৩ কিলোমিটার অংশের সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে ফাটল, কার্পেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং যান চলাচলে সমস্যার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কাজ এখনও চলমান থাকলেও এরই মধ্যে সড়কের বিভিন্ন অংশে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় নির্মাণকাজের মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বুরুঙ্গা সড়কের মোড় থেকে বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে পাথর ও সুরকি বেরিয়ে এসেছে। প্রথমপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বুরুঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি স্থানে ফাটল ও ক্ষয়ের চিহ্ন চোখে পড়ে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কিছু স্থানে ছোট ছোট গর্তেরও সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সিসি ঢালাই অংশের শুরুতে ফাটল দেখা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে সড়কের কয়েকটি স্থানে দুই পাশের মাটি ভরাটের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, সংস্কারকাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই এমন পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।
সাবেক বুরুঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খালিল আহমদ বলেন, “কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে ক্ষতির চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। কোথাও ফাটল ধরেছে, আবার কোথাও কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে সড়কটি আগের তুলনায় কিছুটা সরু হয়ে গেছে। আগে যেখানে দুটি গাড়ি সহজে চলাচল করত, এখন সেখানে একসঙ্গে দুটি গাড়ি পাশ দিতে সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।”
ডাচ-বাংলা ব্যাংক বুরুঙ্গা এজেন্ট আউটলেটের পরিচালক সাব্বির আহমদ বলেন, “এলাকাবাসী একটি টেকসই ও মানসম্মত সড়কের প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে সমস্যা দেখা যাওয়ায় মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে বিষয়টি যাচাই করুক।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী কামাল আহমদের অভিযোগ, সিসি ঢালাই সড়কের দুই পাশের মাটি ভরাটের কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি। ফলে একসঙ্গে দুটি গাড়ি চলাচলে সমস্যা হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হেলাল মিয়া বলেন, “আমরা শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছি। সংস্কারের পর ভোগান্তি কমবে ভেবেছিলাম, কিন্তু এখনো নানা সমস্যার কারণে মানুষ দুর্ভোগে রয়েছে। রাস্তার কিছু অংশ আঁকাবাঁকা ও অসমান মনে হচ্ছে। প্রায়ই যানজট তৈরি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।”
বুরুঙ্গা ৭০৭-এর অন্তর্ভুক্ত উপ-সিএনজি শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক মিজান আহমদ বলেন, “দীর্ঘদিনের দাবির পর সড়কের কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ক্ষয়ের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। আমরা চাই বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
সিএনজি চালক সুরুজ আলী বলেন, “নতুন সড়ক হওয়ায় স্বস্তি পাব ভেবেছিলাম। কিন্তু এখন অনেক স্থানে গাড়ি চালাতে সমস্যা হচ্ছে। বিপরীত দিক থেকে গাড়ি এলে পাশ কাটাতে কষ্ট হয়। বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।”
সাবেক ইউপি সদস্য ছানারা বেগম বলেন, “সড়কে প্রায়ই যানজট তৈরি হচ্ছে। সম্প্রতি আমরা প্রায় আধাঘণ্টা জ্যামে আটকে ছিলাম। ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি দূর করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
স্থানীয় বাসিন্দা নোমান আহমদ জানান, স্কুলসংলগ্ন এলাকায় ঢালাই অংশে ফাটল এবং কয়েকটি স্থানে কার্পেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি তারা সরেজমিনে দেখেছেন। তিনি সড়কটি টেকসইভাবে সম্পন্ন করার জন্য দ্রুত পরিদর্শনের দাবি জানান।
স্থানীয় অটোরিকশা চালক রাজু মিয়াসহ কয়েকজনের অভিযোগ, সড়কের কিছু অংশে ইতোমধ্যে ক্ষয়ের চিহ্ন দেখা দেওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জনভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বেলাল আহমদ। তিনি বলেন, “অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন। উপজেলা প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। একটি স্থানে সামান্য ফাটল দেখা দিয়েছিল, যা মেরামত করা হয়েছে। কাজ এখনও চলমান রয়েছে এবং সম্পূর্ণ বিলও পরিশোধ করা হয়নি।”
ওসমানীনগর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “বিষয়টি আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করব। কোথাও কোনো ত্রুটি বা সমস্যা পাওয়া গেলে ঠিকাদারকে তা সংশোধন করতে হবে। কাজের সম্পূর্ণ বিল এখনও পরিশোধ করা হয়নি।”
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা বলেন, “বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নিয়ে কাজটি যেন সুন্দর ও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করা হবে।”

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬
মোঃ রাজন আহমদ:
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার বুরুঙ্গা ইউনিয়নের বুরুঙ্গা বাজার সংযোগ সড়কের প্রায় ৩ কিলোমিটার অংশের সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে ফাটল, কার্পেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং যান চলাচলে সমস্যার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কাজ এখনও চলমান থাকলেও এরই মধ্যে সড়কের বিভিন্ন অংশে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় নির্মাণকাজের মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বুরুঙ্গা সড়কের মোড় থেকে বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে পাথর ও সুরকি বেরিয়ে এসেছে। প্রথমপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বুরুঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি স্থানে ফাটল ও ক্ষয়ের চিহ্ন চোখে পড়ে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কিছু স্থানে ছোট ছোট গর্তেরও সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সিসি ঢালাই অংশের শুরুতে ফাটল দেখা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে সড়কের কয়েকটি স্থানে দুই পাশের মাটি ভরাটের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, সংস্কারকাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই এমন পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।
সাবেক বুরুঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খালিল আহমদ বলেন, “কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে ক্ষতির চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। কোথাও ফাটল ধরেছে, আবার কোথাও কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে সড়কটি আগের তুলনায় কিছুটা সরু হয়ে গেছে। আগে যেখানে দুটি গাড়ি সহজে চলাচল করত, এখন সেখানে একসঙ্গে দুটি গাড়ি পাশ দিতে সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।”
ডাচ-বাংলা ব্যাংক বুরুঙ্গা এজেন্ট আউটলেটের পরিচালক সাব্বির আহমদ বলেন, “এলাকাবাসী একটি টেকসই ও মানসম্মত সড়কের প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে সমস্যা দেখা যাওয়ায় মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে বিষয়টি যাচাই করুক।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী কামাল আহমদের অভিযোগ, সিসি ঢালাই সড়কের দুই পাশের মাটি ভরাটের কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি। ফলে একসঙ্গে দুটি গাড়ি চলাচলে সমস্যা হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হেলাল মিয়া বলেন, “আমরা শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছি। সংস্কারের পর ভোগান্তি কমবে ভেবেছিলাম, কিন্তু এখনো নানা সমস্যার কারণে মানুষ দুর্ভোগে রয়েছে। রাস্তার কিছু অংশ আঁকাবাঁকা ও অসমান মনে হচ্ছে। প্রায়ই যানজট তৈরি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।”
বুরুঙ্গা ৭০৭-এর অন্তর্ভুক্ত উপ-সিএনজি শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক মিজান আহমদ বলেন, “দীর্ঘদিনের দাবির পর সড়কের কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ক্ষয়ের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। আমরা চাই বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
সিএনজি চালক সুরুজ আলী বলেন, “নতুন সড়ক হওয়ায় স্বস্তি পাব ভেবেছিলাম। কিন্তু এখন অনেক স্থানে গাড়ি চালাতে সমস্যা হচ্ছে। বিপরীত দিক থেকে গাড়ি এলে পাশ কাটাতে কষ্ট হয়। বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।”
সাবেক ইউপি সদস্য ছানারা বেগম বলেন, “সড়কে প্রায়ই যানজট তৈরি হচ্ছে। সম্প্রতি আমরা প্রায় আধাঘণ্টা জ্যামে আটকে ছিলাম। ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি দূর করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
স্থানীয় বাসিন্দা নোমান আহমদ জানান, স্কুলসংলগ্ন এলাকায় ঢালাই অংশে ফাটল এবং কয়েকটি স্থানে কার্পেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি তারা সরেজমিনে দেখেছেন। তিনি সড়কটি টেকসইভাবে সম্পন্ন করার জন্য দ্রুত পরিদর্শনের দাবি জানান।
স্থানীয় অটোরিকশা চালক রাজু মিয়াসহ কয়েকজনের অভিযোগ, সড়কের কিছু অংশে ইতোমধ্যে ক্ষয়ের চিহ্ন দেখা দেওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জনভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বেলাল আহমদ। তিনি বলেন, “অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন। উপজেলা প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। একটি স্থানে সামান্য ফাটল দেখা দিয়েছিল, যা মেরামত করা হয়েছে। কাজ এখনও চলমান রয়েছে এবং সম্পূর্ণ বিলও পরিশোধ করা হয়নি।”
ওসমানীনগর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “বিষয়টি আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করব। কোথাও কোনো ত্রুটি বা সমস্যা পাওয়া গেলে ঠিকাদারকে তা সংশোধন করতে হবে। কাজের সম্পূর্ণ বিল এখনও পরিশোধ করা হয়নি।”
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা বলেন, “বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নিয়ে কাজটি যেন সুন্দর ও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করা হবে।”

আপনার মতামত লিখুন