নিজস্ব প্রতিনিধি:
বিতর্ক যেন পিছুই ছাড়ছে না ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশার। ‘আপা’ সম্বোধনকে কেন্দ্র করে বনফুলের এক কর্মচারীকে জরিমানা করার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এবার সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রম চলাকালে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থগিত রেখে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করায় নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত বিভিন্ন অভিযোগ ও সমালোচনার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন ইউএনও মুনমুন নাহার আশা।
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও স্বীকার করেন যে বনফুলের কর্মচারী আব্দুল মান্নান তাকে একাধিকবার ‘আপা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। তবে তিনি দাবি করেন, ওই কর্মচারীকে ‘আপা’ ডাকার কারণে নয়, বাসি মিষ্টি বিক্রির দায়ে জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কর্মচারী আব্দুল মান্নান গতকাল দাবি করেছিলেন তাকে ‘আপা’ সম্বোধনের কারণেই তাকে জেল জরিমানা ও চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, প্রথমে শাখা ব্যবস্থাপক উপস্থিত না থাকলে পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের শাখা ব্যবস্থাপক উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাকে জেলের ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
তবে সংবাদ সম্মেলন চলাকালে উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য দপ্তরের কোনো কর্মকর্তাকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, সরকারি কার্যালয়ে এ ধরনের সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের ক্ষেত্রে সাধারণত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদেরও অবহিত করা প্রয়োজন। তবে এ ক্ষেত্রে এমন কোনো অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না তার জানা নেই।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে ইউএনও মুনমুন নাহার আশা এক পর্যায়ে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে কথা বলেন। তিনি সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই করে আরও সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রতিবেদন প্রকাশের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তাকে ‘আপা’ সম্বোধন করা শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি হয়তো ভাইরাল করার উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করা হয়ে থাকতে পারে।
সাংবাদিকদের অন্য প্রসঙ্হে ইউএনও বলেন,
কোম্পানি তাদের কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রশাসনিক বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে, তা মোবাইল কোর্টের বিচার্য বিষয় নয়। মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম সাধারণত সংঘটিত অনিয়ম বা অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তবে সংশ্লিষ্ট শাখা ব্যবস্থাপক উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কর্মচারীকে জরিমানা করে তার স্বাক্ষর নেওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ইউএনও সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এ সময় ইউএনও স্বীকার করেন, চাকরি রক্ষা এবং জরিমানা কমাতে কর্মচারি আব্দুল মান্নান তার কার্যালয়ে এসেছিলেন। তবে জরিমানা কমানোর কোনো সুযোগ ছিল না বলে দাবি করে তিনি বলেন, চাকরি রক্ষার বিষয়ে তিনি আন্তরিক ছিলেন।
অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থগিত রেখে সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশার সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে পাঠানো খুদে বার্তাও তিনি দেখেছেন, তবে সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত কোনো জবাব দেননি।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তা দেখলেও কোনো জবাব দেননি।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি অফিসের প্রধান উদ্দেশ্য হলো জনগণকে দ্রুত ও কার্যকর সেবা প্রদান করা। অফিস চলাকালে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত করে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তারা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি:
বিতর্ক যেন পিছুই ছাড়ছে না ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশার। ‘আপা’ সম্বোধনকে কেন্দ্র করে বনফুলের এক কর্মচারীকে জরিমানা করার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এবার সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রম চলাকালে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থগিত রেখে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করায় নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত বিভিন্ন অভিযোগ ও সমালোচনার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন ইউএনও মুনমুন নাহার আশা।
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও স্বীকার করেন যে বনফুলের কর্মচারী আব্দুল মান্নান তাকে একাধিকবার ‘আপা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। তবে তিনি দাবি করেন, ওই কর্মচারীকে ‘আপা’ ডাকার কারণে নয়, বাসি মিষ্টি বিক্রির দায়ে জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কর্মচারী আব্দুল মান্নান গতকাল দাবি করেছিলেন তাকে ‘আপা’ সম্বোধনের কারণেই তাকে জেল জরিমানা ও চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, প্রথমে শাখা ব্যবস্থাপক উপস্থিত না থাকলে পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের শাখা ব্যবস্থাপক উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাকে জেলের ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
তবে সংবাদ সম্মেলন চলাকালে উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য দপ্তরের কোনো কর্মকর্তাকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, সরকারি কার্যালয়ে এ ধরনের সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের ক্ষেত্রে সাধারণত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদেরও অবহিত করা প্রয়োজন। তবে এ ক্ষেত্রে এমন কোনো অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না তার জানা নেই।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে ইউএনও মুনমুন নাহার আশা এক পর্যায়ে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে কথা বলেন। তিনি সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই করে আরও সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রতিবেদন প্রকাশের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তাকে ‘আপা’ সম্বোধন করা শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি হয়তো ভাইরাল করার উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করা হয়ে থাকতে পারে।
সাংবাদিকদের অন্য প্রসঙ্হে ইউএনও বলেন,
কোম্পানি তাদের কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রশাসনিক বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে, তা মোবাইল কোর্টের বিচার্য বিষয় নয়। মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম সাধারণত সংঘটিত অনিয়ম বা অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তবে সংশ্লিষ্ট শাখা ব্যবস্থাপক উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কর্মচারীকে জরিমানা করে তার স্বাক্ষর নেওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ইউএনও সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এ সময় ইউএনও স্বীকার করেন, চাকরি রক্ষা এবং জরিমানা কমাতে কর্মচারি আব্দুল মান্নান তার কার্যালয়ে এসেছিলেন। তবে জরিমানা কমানোর কোনো সুযোগ ছিল না বলে দাবি করে তিনি বলেন, চাকরি রক্ষার বিষয়ে তিনি আন্তরিক ছিলেন।
অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থগিত রেখে সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশার সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে পাঠানো খুদে বার্তাও তিনি দেখেছেন, তবে সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত কোনো জবাব দেননি।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তা দেখলেও কোনো জবাব দেননি।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি অফিসের প্রধান উদ্দেশ্য হলো জনগণকে দ্রুত ও কার্যকর সেবা প্রদান করা। অফিস চলাকালে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত করে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তারা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন