নিজস্ব প্রতিনিধি:
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় খানাখন্দে ভরা প্রায় ১৫০ কিলোমিটার সড়ক এখন চরম জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সড়কে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো যাত্রী ও যানবাহন চালক। কোথাও বড় বড় গর্ত, কোথাও আবার বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে থাকা ভাঙাচোরা অংশ—সব মিলিয়ে উপজেলার অধিকাংশ সড়ক ধীরে ধীরে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে প্রায় ৩৬০ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা এখনো পাকাকরণের অপেক্ষায় থাকায় বিস্তীর্ণ জনপদের মানুষ আধুনিক যোগাযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ওসমানীনগর উপজেলায় এলজিইডির আওতাধীন মোট প্রায় ৬২০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে পাকা সড়কের পরিমাণ মাত্র ২৬০ কিলোমিটার এবং কাঁচা সড়ক প্রায় ৩৬০ কিলোমিটার। বর্তমানে প্রায় ৯০ কিলোমিটার সড়ক ভালো অবস্থায় রয়েছে এবং প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজ চলমান। তবে অন্তত আরও ১৫০ কিলোমিটার সড়ক জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও উন্নয়নের দাবি উঠলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে চলাচল, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
উপজেলার দয়ামীর, উমরপুর ও তাজপুর ইউনিয়নে পাকা সড়কের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হলেও সিলেট-ঢাকা মহাসড়কসংলগ্ন গোয়ালাবাজার, সাদিপুর, তাজপুর ও দয়ামীর এলাকার সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ অত্যধিক। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এসব সড়কের বিভিন্ন অংশ এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এদিকে পৈলনপুর, উসমানপুর ও উমরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন পাকা ও কাঁচা সড়কও বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সরাসরি মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত না হলেও দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এসব এলাকার মানুষের দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে।
সড়কের দুরবস্থার পাশাপাশি জনভোগান্তির আরেকটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সড়কের দুই পাশে থাকা এলজিইডির ঝুঁকিপূর্ণ গাছপালা। গোয়ালাবাজার-খাদিমপুর, গোয়ালাবাজার-করণসী, দয়ামীর-দেওয়ানবাজার এবং তাজপুর-নাগেরকোনা সড়কের পাশে কয়েকশ গাছ রয়েছে। এর মধ্যে অনেক গাছ সড়ক, ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দিকে হেলে পড়েছে। আবার কিছু গাছ শুকিয়ে মৃত অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। ঝড়-বৃষ্টি বা বৈরী আবহাওয়ায় এসব গাছের ডালপালা ভেঙে পড়ে বিদ্যুৎ লাইন, যানবাহন ও পথচারীদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
এছাড়া অধিকাংশ সড়কের পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির পানি জমে থাকায় গর্তের গভীরতা বোঝা যায় না। ফলে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়েই যানবাহন চালাতে হচ্ছে চালকদের। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে।
তাজপুর বাজারের সিএনজি চালক আহমদ আলী বলেন, “খানাখন্দে ভরা রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন চলতে খুব কষ্ট হয়। গাড়ি নষ্ট হয়, যাত্রীরাও আতঙ্কে থাকেন। দ্রুত সংস্কার না হলে আমাদের জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়বে।”
এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী এস. এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর সংস্কার পর্যায়ক্রমে করা হচ্ছে। জরুরি সড়কগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।” তিনি আরও জানান, উপজেলা বন কর্মকর্তা না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারণ ও নিলাম কার্যক্রম সময়মতো সম্পন্ন করা যাচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, উপজেলার সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার স্বার্থে দ্রুত সড়ক সংস্কার ও কাঁচা রাস্তা পাকাকরণের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।

বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি:
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় খানাখন্দে ভরা প্রায় ১৫০ কিলোমিটার সড়ক এখন চরম জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সড়কে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো যাত্রী ও যানবাহন চালক। কোথাও বড় বড় গর্ত, কোথাও আবার বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে থাকা ভাঙাচোরা অংশ—সব মিলিয়ে উপজেলার অধিকাংশ সড়ক ধীরে ধীরে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে প্রায় ৩৬০ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা এখনো পাকাকরণের অপেক্ষায় থাকায় বিস্তীর্ণ জনপদের মানুষ আধুনিক যোগাযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ওসমানীনগর উপজেলায় এলজিইডির আওতাধীন মোট প্রায় ৬২০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে পাকা সড়কের পরিমাণ মাত্র ২৬০ কিলোমিটার এবং কাঁচা সড়ক প্রায় ৩৬০ কিলোমিটার। বর্তমানে প্রায় ৯০ কিলোমিটার সড়ক ভালো অবস্থায় রয়েছে এবং প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজ চলমান। তবে অন্তত আরও ১৫০ কিলোমিটার সড়ক জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও উন্নয়নের দাবি উঠলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে চলাচল, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
উপজেলার দয়ামীর, উমরপুর ও তাজপুর ইউনিয়নে পাকা সড়কের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হলেও সিলেট-ঢাকা মহাসড়কসংলগ্ন গোয়ালাবাজার, সাদিপুর, তাজপুর ও দয়ামীর এলাকার সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ অত্যধিক। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এসব সড়কের বিভিন্ন অংশ এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এদিকে পৈলনপুর, উসমানপুর ও উমরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন পাকা ও কাঁচা সড়কও বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সরাসরি মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত না হলেও দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এসব এলাকার মানুষের দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে।
সড়কের দুরবস্থার পাশাপাশি জনভোগান্তির আরেকটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সড়কের দুই পাশে থাকা এলজিইডির ঝুঁকিপূর্ণ গাছপালা। গোয়ালাবাজার-খাদিমপুর, গোয়ালাবাজার-করণসী, দয়ামীর-দেওয়ানবাজার এবং তাজপুর-নাগেরকোনা সড়কের পাশে কয়েকশ গাছ রয়েছে। এর মধ্যে অনেক গাছ সড়ক, ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দিকে হেলে পড়েছে। আবার কিছু গাছ শুকিয়ে মৃত অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। ঝড়-বৃষ্টি বা বৈরী আবহাওয়ায় এসব গাছের ডালপালা ভেঙে পড়ে বিদ্যুৎ লাইন, যানবাহন ও পথচারীদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
এছাড়া অধিকাংশ সড়কের পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির পানি জমে থাকায় গর্তের গভীরতা বোঝা যায় না। ফলে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়েই যানবাহন চালাতে হচ্ছে চালকদের। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে।
তাজপুর বাজারের সিএনজি চালক আহমদ আলী বলেন, “খানাখন্দে ভরা রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন চলতে খুব কষ্ট হয়। গাড়ি নষ্ট হয়, যাত্রীরাও আতঙ্কে থাকেন। দ্রুত সংস্কার না হলে আমাদের জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়বে।”
এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী এস. এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর সংস্কার পর্যায়ক্রমে করা হচ্ছে। জরুরি সড়কগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।” তিনি আরও জানান, উপজেলা বন কর্মকর্তা না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারণ ও নিলাম কার্যক্রম সময়মতো সম্পন্ন করা যাচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, উপজেলার সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার স্বার্থে দ্রুত সড়ক সংস্কার ও কাঁচা রাস্তা পাকাকরণের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।

আপনার মতামত লিখুন