আলোর সন্ধানে প্রতিদিন

সিসি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ: ইউএনও প্রত্যাহার দাবিতে উত্তপ্ত ওসমানীনগর



সিসি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ: ইউএনও প্রত্যাহার দাবিতে উত্তপ্ত ওসমানীনগর
মোঃ রাজন আহমদ এর ছবি সংগ্রহ

উপজেলা প্রতিনিধি, ওসমানীনগর (সিলেট):

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় নির্বাচনী সিসি (ক্যামেরা) প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশাকে প্রত্যাহার এবং তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কবির আহমদের পূর্ণ বহালের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। একই সঙ্গে ইউনিয়নের নাগরিক সেবা বিঘ্নিত হওয়ায় সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

সোমবার (৫ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে চেয়ারম্যানের পক্ষে একটি রিট মামলা চলমান থাকা অবস্থায় নির্বাচনী সিসি প্রকল্পে দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশার

 ব্যক্তিগত রোষানলে পড়েন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. কবির আহমদ।

বক্তারা দাবি করেন,মাঠ প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এমন প্রতিহিংসামূলক আচরণ সরকারের প্রশাসনিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে এবং সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনার উন্নয়ন কার্যক্রমকে  প্রশ্নবিদ্ধ করতে পরিকল্পিতভাবে এমনটা করা হয়েছে। তারা দ্রুত ইউএনওকে প্রত্যাহার এবং চেয়ারম্যানকে পূর্ণ বহালের জোর দাবি জানান।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবী ও রাজনীতিবিদ সাইস্তা মিয়া, সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম শফিক, আব্দুস শহীদ, জুনু মিয়া, সিলেট জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের বাস-মিনিবাস সমিতির কার্যকরী কমিটির সভাপতি সাহেব আলী, উপজেলা ট্রাক সমিতির সাবেক সভাপতি সুফি মিয়া, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল মিয়া, তাজপুর বাজারের ব্যবসায়ী শহিদুল আজমসহ আরও অনেকে।

এদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস টি এম ফখর উদ্দিন বলেন,এত বড় একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ইউএনও উপজেলা বিএনপির নেতৃত্ব কিংবা সংসদ সদস্যকে অবহিত করেননি।তিনি আরও বলেন,যদি ইউএনও আইনগত প্রক্রিয়ায় এ পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন, তাহলে চেয়ারম্যানও আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে বিষয়টি মোকাবিলা করবেন এবং উপজেলা বিএনপি তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. কবির আহমদ ওসমানীনগরে বাস্তবায়িত নির্বাচনী সিসি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন। এর পর তিনি ইউএনও মুনমুন নাহার আশার ব্যক্তিগত রোষানলে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে।

চেয়ারম্যানের পক্ষে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে একটি রিট মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও গত ২ মার্চ ইউএনও মুনমুন নাহার আশা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকের কাছে চেয়ারম্যানকে অপসারণ চেয়ে প্রশাসক নিয়োগের সুপারিশ করেন। পরবর্তীতে ৩ এপ্রিল (সরকারি ছুটির দিনে) জেলা প্রশাসক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. কবির আহমদকে অপসারণ করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম তালুকদারকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেন। এতে উপজেলায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অস্থিরতা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করে।

বিষয় : #osmani Nagar

আপনার মতামত লিখুন

 আলোর সন্ধানে প্রতিদিন

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


সিসি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ: ইউএনও প্রত্যাহার দাবিতে উত্তপ্ত ওসমানীনগর

প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

উপজেলা প্রতিনিধি, ওসমানীনগর (সিলেট):


সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় নির্বাচনী সিসি (ক্যামেরা) প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশাকে প্রত্যাহার এবং তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কবির আহমদের পূর্ণ বহালের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। একই সঙ্গে ইউনিয়নের নাগরিক সেবা বিঘ্নিত হওয়ায় সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।


সোমবার (৫ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।


বক্তারা অভিযোগ করেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে চেয়ারম্যানের পক্ষে একটি রিট মামলা চলমান থাকা অবস্থায় নির্বাচনী সিসি প্রকল্পে দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশার

 ব্যক্তিগত রোষানলে পড়েন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. কবির আহমদ।

বক্তারা দাবি করেন,মাঠ প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এমন প্রতিহিংসামূলক আচরণ সরকারের প্রশাসনিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে এবং সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনার উন্নয়ন কার্যক্রমকে  প্রশ্নবিদ্ধ করতে পরিকল্পিতভাবে এমনটা করা হয়েছে। তারা দ্রুত ইউএনওকে প্রত্যাহার এবং চেয়ারম্যানকে পূর্ণ বহালের জোর দাবি জানান।


কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবী ও রাজনীতিবিদ সাইস্তা মিয়া, সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম শফিক, আব্দুস শহীদ, জুনু মিয়া, সিলেট জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের বাস-মিনিবাস সমিতির কার্যকরী কমিটির সভাপতি সাহেব আলী, উপজেলা ট্রাক সমিতির সাবেক সভাপতি সুফি মিয়া, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল মিয়া, তাজপুর বাজারের ব্যবসায়ী শহিদুল আজমসহ আরও অনেকে।


এদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস টি এম ফখর উদ্দিন বলেন,এত বড় একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ইউএনও উপজেলা বিএনপির নেতৃত্ব কিংবা সংসদ সদস্যকে অবহিত করেননি।তিনি আরও বলেন,যদি ইউএনও আইনগত প্রক্রিয়ায় এ পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন, তাহলে চেয়ারম্যানও আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে বিষয়টি মোকাবিলা করবেন এবং উপজেলা বিএনপি তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।


প্রসঙ্গত, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. কবির আহমদ ওসমানীনগরে বাস্তবায়িত নির্বাচনী সিসি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন। এর পর তিনি ইউএনও মুনমুন নাহার আশার ব্যক্তিগত রোষানলে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে।


চেয়ারম্যানের পক্ষে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে একটি রিট মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও গত ২ মার্চ ইউএনও মুনমুন নাহার আশা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকের কাছে চেয়ারম্যানকে অপসারণ চেয়ে প্রশাসক নিয়োগের সুপারিশ করেন। পরবর্তীতে ৩ এপ্রিল (সরকারি ছুটির দিনে) জেলা প্রশাসক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. কবির আহমদকে অপসারণ করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম তালুকদারকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেন। এতে উপজেলায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অস্থিরতা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করে।


 আলোর সন্ধানে প্রতিদিন


কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আলোর সন্ধানে প্রতিদিন