আলোর সন্ধানে প্রতিদিন

উমরপুর ইউনিয়নে কৃষি প্রণোদনা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ: স্বজনপ্রীতি ও তথ্য গোপনের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত

মো: রাজন আহমদ, সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে হাওরের অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত কৃষি প্রণোদনা বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।অভিযোগকারী কৃষক ও এলাকাবাসীর দাবি, জনপ্রতি ১৫ কেজি চাল ও ৩ হাজার টাকা সহায়তা প্রদানের জন্য প্রস্তুতকৃত সুবিধাভোগীর তালিকায় ব্যাপক অসঙ্গতি রয়েছে। অনেক প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে কৃষিকাজের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন—এমন ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।সৈয়দ মান্দারুকা গ্রামের কৃষক খলকু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের স্বচ্ছতা ছিল না। প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে অন্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা উচিত।”একই গ্রামের সৈয়দ দবির আলী বলেন, “সরকার কৃষকদের জন্য যে প্রণোদনা দিয়েছে, তা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কিন্তু তালিকা নিয়ে যেভাবে প্রশ্ন উঠেছে, তাতে দায়িত্বশীলদের তদারকির ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।”সমাজসেবক দুলাল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “সরকারের দেওয়া এই প্রণোদনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক প্রশ্ন ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক প্রকৃত কৃষক তালিকার বাইরে রয়ে গেছেন, আবার তালিকাভুক্ত অনেকের যোগ্যতা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ইউপি সদস্যের মোবাইল নম্বর অন্য ব্যক্তির নামের পাশে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আমরা সম্পূর্ণ তালিকা পুনরায় যাচাই করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানাই। অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি বা তথ্য গোপনের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।”স্থানীয়দের অভিযোগ, সুবিধাভোগী নির্বাচন ও তালিকা যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা উপজেলা কৃষি বিভাগ, ইউনিয়ন পরিষদ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির কারণে সরকারি সহায়তা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবর্তে অন্যদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে, যা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে চরম অবিচারের শামিল।এ বিষয়ে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উম্মে তামিমা অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে সংক্ষিপ্ত উত্তর দেন।উমরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সহিদ মিয়া বলেন, “এ বিষয়ে ইউনিয়নের কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা ভালো বলতে পারবেন। উমরপুর ইউনিয়নে তারাই এসব কার্যক্রম পরিচালনা করেন।” এলাকাবাসী দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা উদঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

উমরপুর ইউনিয়নে কৃষি প্রণোদনা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ: স্বজনপ্রীতি ও তথ্য গোপনের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত