৬০ বছর ধরে চাপা ছিল রংপুরের লোহার খনি! আমদানিনির্ভর সিন্ডিকেটের কারণে বছরে ৪০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা বিপুল খনিজ সম্পদ নিয়ে ফের শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নে প্রায় ৬০ বছর আগে লোহা, তামা, নিকেল ও স্বর্ণের সম্ভাব্য বিশাল খনির সন্ধান মিললেও, দীর্ঘ ছয় দশক ধরে সেই সম্পদ কার্যত অযত্নে পড়ে ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এই খনি শুধু রংপুর বা উত্তরবঙ্গের নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের অর্থনীতির চেহারা বদলে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। অথচ রহস্যজনকভাবে বছরের পর বছর ধরে প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি।
জানা যায়, ১৯৬৫ সালে ভূতাত্ত্বিক জরিপের সময় প্রথম এই অঞ্চলে খনিজ সম্পদের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে সীমিত পরিসরে অনুসন্ধান চালানো হলেও পূর্ণাঙ্গ খনন বা শিল্পায়নের উদ্যোগ আর এগোয়নি। ফলে কোটি কোটি টাকার সম্ভাবনাময় সম্পদ মাটির নিচেই পড়ে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, দেশে নিজস্ব লোহার উৎস চালু হলে বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানির ওপর নির্ভরতা অনেক কমে যেত। বর্তমানে বাংলাদেশ প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ লোহা ও তামা আমদানি করছে। এসব আমদানিতে বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বড় চাপ তৈরি করছে।
আমদানিকারক সিন্ডিকেটের প্রভাব?
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন মহলের অভিযোগ, একটি শক্তিশালী আমদানিকারক সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এই খনির প্রকল্পকে কার্যকর হতে দেয়নি। কারণ দেশে নিজস্ব লোহা উৎপাদন শুরু হলে আমদানি বাণিজ্যের বিশাল অংশ বন্ধ হয়ে যেত এবং হাজার হাজার কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতো।
অভিযোগ রয়েছে, দেশের শিল্প খাতে ব্যবহৃত লোহা ও তামার বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। শুধু ২০২৪ সালেই প্রায় ৩.১ বিলিয়ন ডলারের লোহা এবং প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলারের তামা আমদানি করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে। ফলে বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে।
সমালোচকদের প্রশ্ন— যখন দেশের মাটির নিচেই বিপুল সম্পদ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, তখন কেন দশকের পর দশক ধরে তা উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি?
অবশেষে শুরু আধুনিক ড্রিলিং
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে নতুন করে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে প্রায় ১,২০০ মিটার গভীরে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পুনরায় ড্রিলিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান প্রযুক্তি ব্যবহার করে খনিজের প্রকৃত মজুত, গুণগত মান এবং বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনের সক্ষমতা যাচাই করা সম্ভব হবে। যদি সবকিছু অনুকূলে থাকে, তবে এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় খনিজ প্রকল্পে পরিণত হতে পারে।
বদলে যেতে পারে দেশের অর্থনীতি
অর্থনীতিবিদদের মতে, রংপুরের এই খনি চালু হলে দেশের শিল্পখাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
সম্ভাব্য সুফলগুলো হলো:
✅ রড ও স্টিলের দাম কমতে পারে
দেশে নিজস্ব লোহা উৎপাদন শুরু হলে নির্মাণ শিল্পে ব্যবহৃত রড ও স্টিলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের বাড়ি নির্মাণের খরচ কমবে এবং বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ হবে।
✅ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়
লোহা ও তামা আমদানিতে বছরে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়, তার বড় অংশ সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। এতে দেশের ডলার সংকট ও রিজার্ভের চাপ কমবে।
✅ উত্তরবঙ্গে ভারী শিল্প গড়ে উঠবে
খনিকে কেন্দ্র করে পীরগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় গড়ে উঠতে পারে স্টিল মিল, গলন কারখানা ও বিভিন্ন ভারী শিল্প। এতে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে।
✅ লাখো মানুষের কর্মসংস্থান
খনি, পরিবহন, শিল্পকারখানা ও সংশ্লিষ্ট খাতে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। স্থানীয় তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।
✅ দেশীয় শিল্পের বিকাশ
নিজস্ব কাঁচামাল সহজলভ্য হলে দেশের নির্মাণ, জাহাজ নির্মাণ, প্রকৌশল ও উৎপাদন শিল্প আরও শক্তিশালী হবে।
স্থানীয়দের ক্ষোভ
পীরগঞ্জ এলাকার সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এত বড় একটি সম্ভাবনাময় সম্পদ বছরের পর বছর অবহেলিত ছিল কেন, তার সঠিক তদন্ত হওয়া উচিত। অনেকেই মনে করছেন, দেশের স্বার্থের চেয়ে কিছু গোষ্ঠীর ব্যবসায়িক সুবিধাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, “যদি ২০ বা ৩০ বছর আগেই এই খনি চালু করা হতো, তাহলে উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক চিত্র আজ সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারতো।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড়
ইতোমধ্যে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন— দেশের সম্পদ রক্ষার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এত বছর কী করেছে? আবার কেউ কেউ বলছেন, “দেশের সম্পদ দেশের কাজে লাগাতে না পারলে উন্নয়নের বড় বড় গল্পের কোনো মূল্য নেই।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খনিজ সম্পদ উত্তোলনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, পরিবেশগত নিরাপত্তা এবং স্থানীয় জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা ও দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে রংপুরের এই খনি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য নতুন যুগের সূচনা করতে পারে।বাংলাদেশের মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা বিপুল খনিজ সম্পদ নিয়ে ফের শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নে প্রায় ৬০ বছর আগে লোহা, তামা, নিকেল ও স্বর্ণের সম্ভাব্য বিশাল খনির সন্ধান মিললেও, দীর্ঘ ছয় দশক ধরে সেই সম্পদ কার্যত অযত্নে পড়ে ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়দের ভাষ্য, এই খনি শুধু রংপুর বা উত্তরবঙ্গের নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের অর্থনীতির চেহারা বদলে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। অথচ রহস্যজনকভাবে বছরের পর বছর ধরে প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি।জানা যায়, ১৯৬৫ সালে ভূতাত্ত্বিক জরিপের সময় প্রথম এই অঞ্চলে খনিজ সম্পদের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে সীমিত পরিসরে অনুসন্ধান চালানো হলেও পূর্ণাঙ্গ খনন বা শিল্পায়নের উদ্যোগ আর এগোয়নি। ফলে কোটি কোটি টাকার সম্ভাবনাময় সম্পদ মাটির নিচেই পড়ে থাকে।বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, দেশে নিজস্ব লোহার উৎস চালু হলে বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানির ওপর নির্ভরতা অনেক কমে যেত। বর্তমানে বাংলাদেশ প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ লোহা ও তামা আমদানি করছে। এসব আমদানিতে বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বড় চাপ তৈরি করছে।আমদানিকারক সিন্ডিকেটের প্রভাব?স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন মহলের অভিযোগ, একটি শক্তিশালী আমদানিকারক সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এই খনির প্রকল্পকে কার্যকর হতে দেয়নি। কারণ দেশে নিজস্ব লোহা উৎপাদন শুরু হলে আমদানি বাণিজ্যের বিশাল অংশ বন্ধ হয়ে যেত এবং হাজার হাজার কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতো।অভিযোগ রয়েছে, দেশের শিল্প খাতে ব্যবহৃত লোহা ও তামার বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। শুধু ২০২৪ সালেই প্রায় ৩.১ বিলিয়ন ডলারের লোহা এবং প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলারের তামা আমদানি করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে। ফলে বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে।সমালোচকদের প্রশ্ন— যখন দেশের মাটির নিচেই বিপুল সম্পদ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, তখন কেন দশকের পর দশক ধরে তা উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি?অবশেষে শুরু আধুনিক ড্রিলিংদীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে নতুন করে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে প্রায় ১,২০০ মিটার গভীরে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পুনরায় ড্রিলিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান প্রযুক্তি ব্যবহার করে খনিজের প্রকৃত মজুত, গুণগত মান এবং বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনের সক্ষমতা যাচাই করা সম্ভব হবে। যদি সবকিছু অনুকূলে থাকে, তবে এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় খনিজ প্রকল্পে পরিণত হতে পারে।বদলে যেতে পারে দেশের অর্থনীতিঅর্থনীতিবিদদের মতে, রংপুরের এই খনি চালু হলে দেশের শিল্পখাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।সম্ভাব্য সুফলগুলো হলো:✅ রড ও স্টিলের দাম কমতে পারে
দেশে নিজস্ব লোহা উৎপাদন শুরু হলে নির্মাণ শিল্পে ব্যবহৃত রড ও স্টিলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের বাড়ি নির্মাণের খরচ কমবে এবং বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ হবে।✅ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়
লোহা ও তামা আমদানিতে বছরে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়, তার বড় অংশ সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। এতে দেশের ডলার সংকট ও রিজার্ভের চাপ কমবে।✅ উত্তরবঙ্গে ভারী শিল্প গড়ে উঠবে
খনিকে কেন্দ্র করে পীরগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় গড়ে উঠতে পারে স্টিল মিল, গলন কারখানা ও বিভিন্ন ভারী শিল্প। এতে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে।✅ লাখো মানুষের কর্মসংস্থান
খনি, পরিবহন, শিল্পকারখানা ও সংশ্লিষ্ট খাতে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। স্থানীয় তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।✅ দেশীয় শিল্পের বিকাশ
নিজস্ব কাঁচামাল সহজলভ্য হলে দেশের নির্মাণ, জাহাজ নির্মাণ, প্রকৌশল ও উৎপাদন শিল্প আরও শক্তিশালী হবে।স্থানীয়দের ক্ষোভপীরগঞ্জ এলাকার সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এত বড় একটি সম্ভাবনাময় সম্পদ বছরের পর বছর অবহেলিত ছিল কেন, তার সঠিক তদন্ত হওয়া উচিত। অনেকেই মনে করছেন, দেশের স্বার্থের চেয়ে কিছু গোষ্ঠীর ব্যবসায়িক সুবিধাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, “যদি ২০ বা ৩০ বছর আগেই এই খনি চালু করা হতো, তাহলে উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক চিত্র আজ সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারতো।”সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড়ইতোমধ্যে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন— দেশের সম্পদ রক্ষার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এত বছর কী করেছে? আবার কেউ কেউ বলছেন, “দেশের সম্পদ দেশের কাজে লাগাতে না পারলে উন্নয়নের বড় বড় গল্পের কোনো মূল্য নেই।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খনিজ সম্পদ উত্তোলনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, পরিবেশগত নিরাপত্তা এবং স্থানীয় জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা ও দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে রংপুরের এই খনি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য নতুন যুগের সূচনা করতে পারে।