প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬
আওয়ামী লীগ নেতাদের কোন্দলে পথ বন্ধ করে অবরুদ্ধ পরিবার, নিরাপত্তাহীনতায় স্কুলে অনুপস্থিত পাঁচ শিক্ষার্থী
মোঃ রাজন আহমদ , নির্বাহী সম্পাদক ||
মোঃ রাজন আহমদ, সিলেটের ওসমানীনগরে আওয়ামী লীগের দুই বলয়ের দীর্ঘদিনের সংঘাতের জেরে প্রতিপক্ষের বাড়ির একমাত্র চলাচলের পথে দেওয়াল নির্মাণ করে পাঁচ বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের যাতায়াত ব্যাহত করার অভিযোগ উঠেছে। নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত নিশ্চিত করতে গত ৯ জুলাই শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের কাছে লিখিত আবেদন করেছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উমরপুর ইউনিয়নের সিকন্দরপুর পশ্চিমগাঁও এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া ও স্থানীয় নেতা শফিকুল ইসলামের পক্ষের সঙ্গে সাবেক ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী নুর হোসেনের দীর্ঘদিনের বিরোধে সন্ত্রাস, অস্ত্রের মহড়া, গুলিবর্ষণ ও হামলার ঘটনা ঘটছে। কার্যকর পুলিশি উদ্যোগের অভাবে এবার এ বিরোধের প্রভাব পড়েছে বিদ্যালয়মুখী শিক্ষার্থীদের ওপর।অভিযোগ রয়েছে, হাজী নুর হোসেনের বাড়ির কেয়ারটেকার সুবোধ সূত্রধরসহ কয়েকটি পরিবারের একমাত্র চলাচলের পথে গোলাম কিবরিয়া ও শফিকুল ইসলামের সমর্থকরা জোরপূর্বক দেওয়াল নির্মাণ করে পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে পাঁচ শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমও।বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিরোধে জড়িত দুই পক্ষের পরিবারের কোনো শিক্ষার্থীই নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হচ্ছে না। শাহ সিকন্দর আলহাজ্ব আব্দুল হাফিজ উচ্চ বিদ্যালয়ের রুদ্র সূত্রধর (দশম) ও ঈশা সূত্রধর (ষষ্ঠ), এবং সিকন্দরপুর শাহ সিদ্দিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জয়, তৈশী ও নিলয় সূত্রধর দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছে।অভিভাবকদের দাবি, হাওড়বেষ্টিত গ্রামটিতে বিকল্প কোনো চলাচলের পথ নেই। বাড়ির একমাত্র রাস্তাটি দেওয়াল নির্মাণ করে বন্ধ করে দেওয়ায় এবং চলমান বিরোধের কারণে সন্তানদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত নিয়ে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অপহরণ, গুম বা হামলার আশঙ্কায় তারা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে পারছেন না।এসএসসি পরীক্ষার্থী রুদ্র সূত্রধরের বাবা প্রণধীর সূত্রধর বলেন,কিবরিয়া ও শফিকুল ইসলামের সশস্ত্র ক্যাডারদের কারণে আমরা সন্তানদের নিরাপদ মনে করছি না। বিশেষ করে আমার এসএসসি পরীক্ষার্থী ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা চরম উদ্বিগ্ন।সিকন্দরপুর শাহ সিদ্দিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা নাজমা বেগম বলেন,শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আবেদনটি গ্রহণ করেছিলাম। পরে বিষয়টি দুই পক্ষের বিরোধের সঙ্গে সম্পৃক্ত জানতে পেরে আবেদনকারীদের কাগজটি প্রত্যাহার করে নিতে বলি।ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মোস্তফা বলেন,এটি মূলত দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধের জের। এ সংক্রান্ত সাতটি মামলা থানা ও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানে পুলিশ উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে মীমাংসার চেষ্টা করছে।
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আলোর সন্ধানে প্রতিদিন