প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬
গোয়ালাবাজারে রেস্টুরেন্টে ‘অশালীন আচরণ’ বিতর্ক: ভাইরাল অভিযোগের পর মুখ খুলল মালাই ওয়ালা কিচেন
নিজস্ব প্রতিনিধি ||
সিলেটের গোয়ালাবাজারের একটি রেস্টুরেন্টে কথিত অশালীন আচরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ফেসবুকে প্রকাশিত একটি পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে মালাই ওয়ালা কিচেন কর্তৃপক্ষ।ফেসবুক পোস্টে এক ব্যক্তি দাবি করেন, গোয়ালাবাজারের একটি রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে গিয়ে তিনি কলেজের ইউনিফর্ম পরা এক ছেলে ও এক মেয়েকে জনসম্মুখে এমন কিছু আচরণ ও অঙ্গভঙ্গি করতে দেখেছেন, যা তাঁর মতে শালীনতার সীমা অতিক্রম করেছে এবং ভদ্র সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনাটি রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের নজরে থাকলেও তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ব্যবসায়িক স্বার্থে যদি এমন পরিবেশকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়, তবে সমাজে শালীনতা, মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।অভিযোগটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রেস্টুরেন্ট মালাই ওয়ালা কিচেন তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি জরুরি নোটিশ প্রকাশ করে। নোটিশে কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘটনাটি তাদের ম্যানেজমেন্টের নজরে আসার আগেই ঘটে যায় এবং ঘটনার সময় উপস্থিত কেউ বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ম্যানেজমেন্টকে অবহিত করেননি।কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের ক্যাফেতে কোনো ধরনের প্রাইভেট ক্যাবিন বা আড়াল করা স্থান নেই। এটি সম্পূর্ণ ওপেন ও পারিবারিক পরিবেশের একটি ক্যাফে। ফলে এ ধরনের আচরণ তাদের নীতিমালা ও পরিবেশের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ।নোটিশে আরও বলা হয়, পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও সব শ্রেণির অতিথিদের জন্য একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও শালীন পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো আচরণ পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়, এমন কোনো ঘটনা ঘটলে শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট না করে তাৎক্ষণিকভাবে রেস্টুরেন্টের ম্যানেজমেন্টকে জানানো হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হতো। দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করাই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ বলেও তারা উল্লেখ করে।এদিকে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মতামত দেখা গেছে। কেউ প্রকাশ্যে শালীনতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, আবার কেউ অভিযোগ করেছেন—সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোর সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল।তবে অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আলোর সন্ধানে প্রতিদিন