প্রিন্ট এর তারিখ : ২০ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬
ওসমানীনগরে রহস্যজনক মৃত্যু: ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় পুলিশ
মোঃ রাজন আহমদ , নির্বাহী সম্পাদক ||
নিজস্ব প্রতিনিধি:সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় একটি কুঁড়েঘর থেকে তুরন মিয়া (৪৬) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর রাইকদাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তুরন মিয়া ওই গ্রামের মৃত মানিক মিয়ার ছেলে। তার পরিবারের অভিযোগ, পূর্ব বিরোধের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তুরন মিয়া দরজা-জানালাবিহীন একটি ভাঙা কুঁড়েঘরে একাই বসবাস করতেন। শুক্রবার দুপুরে তাকে ঘরের ভেতর মৃত অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে ওসমানীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।ঘটনার রহস্য উদঘাটনে বিকেল ৪টার দিকে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর সার্কেল) মানছুরা আক্তারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সময় ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুরশেদুল আলম ভূইয়া, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তবে প্রাথমিক তদন্তে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের ৬ জুন তুরন মিয়া প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে ওসমানীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। অভিযোগের পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি।নিহতের ভাই এলাইছ মিয়া দাবি করেন, অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরাই পূর্ব বিরোধের জেরে তার ভাইকে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, “তুরন মিয়ার মুখমণ্ডলে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা হত্যার আলামত হতে পারে।”অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তুরন মিয়া অধিকাংশ সময় বাড়ির বাইরে থাকতেন এবং মাঝে-মধ্যে নিজ বাড়িতে আসতেন। অবিবাহিত তুরন মিয়া এর আগে দু’বার স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ফলে তার মৃত্যু স্বাভাবিক নাকি হত্যাকাণ্ড—এ নিয়ে এলাকায় নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।স্থানীয় ইউপি সদস্য এম রুম্মান আহমদ জানান, সরকারি রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে তুরন মিয়ার সঙ্গে তার এক চাচাতো ভাইয়ের ঠিকাদার পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা নিষ্পত্তি হয়নি।এ বিষয়ে ওসমানীনগর থানার ওসি মো. মুরশেদুল আলম ভূইয়া বলেন, “এটি হত্যাকাণ্ড নাকি স্বাভাবিক মৃত্যু, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর সার্কেল) মানছুরা আক্তার বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আলোর সন্ধানে প্রতিদিন