প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্বনাথে প্রকৌশলীর গাফিলতিতে ২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার সড়ক প্রকল্প ধসে পড়েছে
মোঃ রাজন আহমদ , নির্বাহী সম্পাদক ||
মোঃ রাজন আহমদ, নির্বহী সম্পাদক, সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা-এ সড়ক সংস্কার প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, নিম্নমানের নির্মাণকাজ ও তদারকির ঘাটতির অভিযোগে প্রায় ২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার উন্নয়ন কার্যক্রম ভেস্তে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সংস্কারের মাত্র ছয় মাসের মাথায় সড়কের বড় অংশ ভেঙে পড়ায় স্থানীয় জনমনে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।জানা যায়, পৌরশহরের নোয়াগাঁও থেকে ৩নং অলংকারী ইউনিয়নের টেংরা রত বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা ও চলাচলের অনুপযোগী ছিল। স্থানীয়দের দুর্ভোগ লাঘবে ছয় মাস আগে সড়কটি সংস্কারের আওতায় আনা হয়। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেয় এবং একটি কালভার্ট ধসে পড়ে। অল্প সময়ের ব্যবধানে পুরো সড়কজুড়ে ভাঙন দেখা দিলে এটি আবারও যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।ঘটনার পর এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ প্রেক্ষিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদী লুনা উপজেলা প্রকৌশলী ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় স্থানীয়রা সড়কের নিম্নমানের কাজ ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং সংসদ সদস্যের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।এরই মধ্যে সপ্তাহ না ঘুরতেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। পুরো সড়কটি ধীরে ধীরে ভেঙে পাশ্ববর্তী বাসিয়া নদী-এর দিকে ধসে পড়তে শুরু করে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর তীরে অপরিকল্পিতভাবে গার্ডওয়াল ও কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে এবং নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার করে সড়কের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত তদারকির অভাব ও সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণে দায়সারা ও মনগড়া কাজ করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে।এ ঘটনায় পুনরায় সংসদ সদস্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং সড়কের পাশে ব্লক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। সর্বশেষ গত ২৯ এপ্রিল তিনি উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।এ বিষয়ে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন খান বলেন, “টেকনিক্যাল জনিত সমস্যার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।” তবে স্থানীয়রা এ বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন এবং তারা দোষীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সড়কটি সম্পূর্ণভাবে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আলোর সন্ধানে প্রতিদিন