প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬
তিন সন্তানের আর্তনাদও থামাতে পারেনি পাষণ্ড বাবাকে: সিলেটে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন
হাফিজুল ইসলাম লস্কর, স্টাফ রিপোর্টারঃ ||
স্টাফ রিপোর্টারঃ হাফিজুল ইসলাম লস্কর,সিলেটের কানাইঘাটে তিন মেয়ের চোখের সামনে মাকে কুপিয়ে হত্যার এক পৈশাচিক ঘটনা ঘটেছে। ঘাতক স্বামী সোহেল আহমদকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও এলাকায় এখনো বিরাজ করছে শোক ও আতঙ্ক। ১২ বছরের শিশু কন্যার জবানবন্দিতে উঠে এসেছে সেই রাতের বিভীষিকাময় বর্ণনা, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।নিহত ফারহানা বেগমের বড় মেয়ের ভাষ্যমতে, গত সোমবার রাতে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে সোহেল ধারালো দা দিয়ে ফারহানার ওপর চড়াও হন। বাঁচার আকুতি জানিয়ে ফারহানা স্বামীর পা জড়িয়ে ধরলেও মন গলেনি সোহেলের। উল্টো মাথা, গাল ও বুকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন তিনি। এসময় সন্তানরা মাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে সোহেল তাদেরও হত্যার হুমকি দিয়ে সরিয়ে দেন। এমনকি নিজের বাবাকেও অস্ত্র উঁচিয়ে দূরে সরিয়ে রেখে এই হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করেন তিনি।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকেই ফারহানার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন সোহেল। নির্যাতনের সইতে না পেরে দুইদিন আগে ফারহানা বাবার বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন। সোমবার বিকেলে সোহেল তাকে বুঝিয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। কিন্তু সেই রাতেই ফিরতি পথে ও বাড়িতে আসার পর ফের শুরু হয় কলহ, যা শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী রূপ নেয়।হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত সোহেল পালিয়ে গেলেও পুলিশি তৎপরতায় কালীনগর বাগরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। নিহত ফারহানা'র ভাই সেলিম আহমদ বাদী হয়ে কানাইঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল তার অপরাধ স্বীকার করেছেন।এই ঘটনাটি পারিবারিক সহিংসতার এক চরম ও বীভৎস রূপ। তুচ্ছ কারণে একজন মা ও স্ত্রীর জীবন কেড়ে নেওয়া এবং অবুঝ শিশুদের সামনে এমন পৈশাচিকতা প্রমাণ করে যে সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয় কতটা গভীর হয়েছে। স্থানীয়রা এই ঘটনার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আলোর সন্ধানে প্রতিদিন