প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬
তাজপুর প্যারাডাইজ মেডিকেল কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অনিয়ম: অতিরিক্ত অর্থ আদায়, অদক্ষ চিকিৎসা—রোগীর জীবন ঝুঁকিতেূ
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ওসমানীনগর (সিলেট) প্রতিনিধি:সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর এলাকায় অবস্থিত তাজপুর প্যারাডাইজ মেডিকেল কমপ্লেক্সকে ঘিরে উঠেছে একের পর এক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ। স্থানীয় সূত্র, ভুক্তভোগী রোগী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে—প্রতিষ্ঠানটিতে স্বাস্থ্যসেবার ন্যূনতম মানও বজায় রাখা হচ্ছে না।অভিযোগ রয়েছে, পুরো মেডিকেল কমপ্লেক্সটি কার্যত একজন মাত্র এমবিবিএস চিকিৎসকের ওপর নির্ভরশীল। অধিকাংশ চিকিৎসাসেবা পরিচালিত হচ্ছে সীমিত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডিপ্লোমাধারী (ডিএমএফ) জনবল দিয়ে। এতে জটিল রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।এছাড়া ফিজিওথেরাপি ও প্যাথলজি বিভাগে কোনো স্বীকৃত বা লাইসেন্সধারী টেকনোলজিস্ট না থাকার অভিযোগ উঠেছে। ফলে এসব বিভাগে পরিচালিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা কার্যক্রমকে অনেকেই অবৈজ্ঞানিক ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে অভিহিত করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। যোগ্য ও অভিজ্ঞ প্রার্থীদের বাদ দিয়ে অদক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে—এমনকি অর্থের বিনিময়ে টেকনিশিয়ান নিয়োগের অভিযোগও উঠেছে। এতে স্বাস্থ্যসেবাকে বাণিজ্যিক খাতে পরিণত করার প্রবণতা স্পষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন মহল।সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো চিকিৎসা খরচে অস্বাভাবিক বৈষম্য। অভিযোগ রয়েছে, একটি রক্তের ক্রসম্যাচিং পরীক্ষার জন্য ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে, যেখানে সিলেটের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে একই পরীক্ষা ৮০০ টাকার মধ্যেই সম্পন্ন হয়। এই মূল্যবৈষম্যকে অনেকেই চিকিৎসার নামে প্রকাশ্য বাণিজ্য হিসেবে দেখছেন।অন্যদিকে, কিছু কর্মী কর্তৃক ‘ডাক্তার’ উপাধির অপব্যবহার করে রোগীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগও উঠেছে, যা আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমে যাচ্ছে।স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের অনিয়ম অব্যাহত থাকলে পুরো অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে রোগীদের সচেতন হয়ে যাচাই-বাছাই করে চিকিৎসা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন,
“আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।”তিনি আরও জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার—এই অধিকার নিয়ে কোনো অনিয়ম বা প্রতারণা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আলোর সন্ধানে প্রতিদিন